উপায়েন নিগৃহ্নীয়াদ্বিক্ষিপ্তং কামভোগয়োঃ।
সুপ্রসন্নং লয়ে চৈব যথা কামো লয়স্তথা॥৪২
অন্বয়: কামভোগয়োঃ (বাসনা এবং বাসনার তৃপ্তি); বিক্ষিপ্তম্ (অস্থির); [মনঃ (মন)]; উপায়েন (যেভাবে বলা হয়েছে); নিগৃহ্লীয়াৎ ([সুষুপ্তিতে] নিয়ন্ত্রণ করা উচিত); [বলা হয়] লয়ে (বিনাশ [কারণ এই অবস্থায় সবকিছুর লয় হয়]); সুপ্রসন্নম্ (উদ্বেগশূন্য [মন যখন সুনিয়ন্ত্রিত তখন এই অবস্থা লাভ হয়]); এব (নিশ্চিতভাবে); [যেহেতু] কামঃ (সুখভোগের বাসনা); যথা (ক্ষতিকর); লয়ঃ তথা (গভীর নিদ্রাও একইভাবে ক্ষতিকর)।
সরলার্থ: যেভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সেভাবে মনকে বাসনা ও ইন্দ্রিয়সুখভোগ থেকে বিরত রাখতে হবে। গভীর নিদ্রায় যখন মন সম্পূর্ণ উদ্বেগশূন্য, তখনও এই অভ্যাস করে যেতে হবে (কারণ বাসনা ও গভীর নিদ্রা একইভাবে মানুষের ক্ষতিসাধন করে)।
ব্যাখ্যা: যাঁরা মনকে সংযত করার জন্য অবিরাম প্রচেষ্টা চালিয়ে গেছেন তাঁদের দৃষ্টান্ত দেওয়া হয়েছে। মনকে বশে আনার উপায় কি? দুভাবে তা করা যায়। মনকে জগৎ থেকে প্রত্যাহার করার নিরন্তর সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। করাটা কঠিন, কিন্তু ঠিক তাই করতে হবে। এটা হল নেতিবাচক দিক। কিন্তু একইসঙ্গে আত্মচিন্তাতেও মগ্ন থাকতে হবে অর্থাৎ মনকে আত্মায় একাগ্র করতে হবে। আমি নিত্য-শুদ্ধ-বুদ্ধ-মুক্ত আত্মা—এই স্বরূপচিন্তায় আনন্দ আছে। এটা হল মনকে বশে আনার ইতিবাচক উপায়। যখন গভীর নিদ্রায় মন সম্পূর্ণ উদ্বেগশূন্য, তখনও এই অভ্যাস করতে হবে। জাগ্রত অথবা সুষুপ্তি সব অবস্থাতেই মন আমাদের সকল দুঃখ-কষ্টের মূল। সুতরাং মনকে নিজের বশে আনতেই হবে। জগৎ থেকে মনকে প্রত্যাহার করে সর্বদা আত্মায় যুক্ত রাখতে হবে।