মনসো নিগ্রহায়ত্তমভয়ং সর্বযোগিনাম্।
দুঃখক্ষয়ঃ প্রবোধশ্চাপ্যক্ষয়া শান্তিরেব চ॥৪০
অন্বয়: সর্বযোগিনাম্ (সেই যোগিগণ [যাঁরা তাঁদের লক্ষ্য থেকে এখনও অনেক দূরে]); অভয়ম্ (ভয়ের নিবৃত্তি); দুঃখক্ষয়ঃ (দুঃখের অবসান); প্রবোধঃ (আত্মজ্ঞান); অক্ষয়া (চিরন্তন); শান্তিঃ (মোক্ষ); এব চ (ও); মনসঃ (মনের); নিগ্রহায়ত্তম্ (সংযম আনতে হয়)।
সরলার্থ: যাঁদের (অর্থাৎ যে যোগীদের) এখনও আত্মোপলব্ধি হয়নি তাঁরা শুধুমাত্র মনকে নিয়ন্ত্রণ করে ভয় ও দুঃখকে সম্পূর্ণভাবে জয় করতে সক্ষম হন এবং মা আত্মজ্ঞান ও চিরশান্তি (অর্থাৎ মোক্ষ) লাভ করেন।
ব্যাখ্যা: কিছু মানুষ আছেন যাঁরা নিশ্চিতভাবে জানেন একমাত্র আত্মাই সত্য, অন্য কিছু সত্য নয়। মন এবং ইন্দ্রিয় সবই মিথ্যা। এরূপ ব্যক্তিরা অচিরেই শান্তি লাভ করেন। কালে তাঁদের মোক্ষও লাভ হয়। আর এই শান্তি বা মোক্ষ লাভ করার জন্য তাঁদের কোন কিছুর উপর নির্ভর করতে হয় না। তাঁদের কোন আচার-অনুষ্ঠানেরও প্রয়োজন নেই; সকল কর্তব্য থেকে তাঁরা মুক্ত।
কিন্তু নিম্নকোটির কিছু মানুষ আছেন যাঁদের এখনও আত্মোপলব্ধি হয়নি। তাঁরা মনে করেন মন আত্মার উপর নির্ভরশীল নয় বরং আত্মার মতোই স্বতন্ত্র এক সত্তা। তাঁদের পক্ষে ভয় ও দুঃখকে জয় করার একমাত্র উপায় মনকে সংযত করা। অসংযত মনই সকল দুঃখের মূল। বিবেক-বুদ্ধি না থাকলে মন অশান্ত হবেই। সুতরাং মনকে বশে আনতে হবে। মন সম্পূর্ণ সংযত হলে আত্মজ্ঞান লাভ হয়, মানুষ শাশ্বত শান্তির অধিকারী হয়।