আত্মা হ্যাকাশবজ্জীবৈৰ্ঘটাকাশৈরিবোদিতঃ।
ঘটাদিবচ্চ সংঘাতৈর্জাতাবেতন্নিদর্শনম্॥৩
অন্বয়: আকাশবৎ (আকাশের মতো); আত্মা (পরমাত্মা); হি ঘটাকাশৈঃ ইব (ঘটের মধ্যে সীমাবদ্ধ আকাশের মতো); জীবৈঃ (হৃদয়স্থ জীবাত্মার দ্বারা); উদিতঃ (প্রকাশিত [জীবরূপে]); ঘটাদিবৎ (ঘটের মতো); সংঘাতৈঃ (দেহের মতো); জাতৌ (জাত হয়েছে); এতৎ নিদর্শনম্ (এটি একটি উদাহরণ)।
সরলার্থ: পরমাত্মা (অনন্ত) আকাশের মতো। জীবাত্মা যেন ঘটের মধ্যে সীমাবদ্ধ আকাশ। জীবের দেহ ও জীবাত্মাকে নানাভাবে এই ঘটাকাশের সঙ্গে তুলনা করা চলে। জীবাত্মা কিভাবে এল তা বোঝাবার জন্য এই উদাহরণটি দেওয়া হয়।
ব্যাখ্যা: পরমাত্মা আকাশের মতো সর্বব্যাপী, সূক্ষ্ম এবং তার কোন রূপ নেই। জীবাত্মা পরমাত্মা ছাড়া আর কিছুই নয়। পরমাত্মা যখন জীবের ক্ষুদ্র দেহের দ্বারা সীমাবদ্ধ তখন তাকে বলি জীবাত্মা। অনন্ত আকাশকে ঘটের মধ্যে যেমন দেখায়, এও ঠিক তেমনি। ঘটের ভিতরেও যে-ই আকাশ, বাইরেও সেই একই আকাশ। তেমনি জীবাত্মা আর পরমাত্মা একই। দেহ ধারণ করলেও তাতে পরমাত্মার কোনও পরিবর্তন হয় না—রজ্জুতে সর্পভ্রম হলে যেমন দড়ির উপর সাপকে আরোপ করা হয়, তেমনিভাবে দেহ পরমাত্মার উপর আরোপিত হয় মাত্র।
যদি মনে করি পরমাত্মা থেকে জীবাত্মার উৎপত্তি তাহলে ভুল করব। দেহ পরমাত্মার উপর আরোপিত হওয়াতেই আমাদের এই ভুল হয়।