অকল্পকমজং জ্ঞানং জ্ঞেয়াভিন্নং প্রচক্ষতে।
ব্রহ্মজ্ঞেয়মজং নিত্যমজেনাজং বিবুধ্যতে॥৩৩
অন্বয়: নিত্যম্ (সর্বদা অভিন্ন); অজং ব্রহ্ম (যাঁর কখনো জন্ম হয়নি সেই ব্ৰহ্ম [যার জ্ঞান]); জ্ঞেয়ম্ (জানতে হবে [তাহলে যদি]); অকল্পকম্ (যাকে কল্পনা করা যায় না); অজম্ (চিরন্তন); জ্ঞানম্ (জ্ঞানস্বরূপ); জ্ঞেয়াভিন্নম্ (যাকে জানতে হবে সেই ব্রহ্ম থেকে ভিন্ন নয়); প্রচক্ষতে ([বিবেকী ব্যক্তিরা] বলেন); অজম্ (জন্মরহিত [ব্রহ্ম স্বয়ং]); অজেন (জ্ঞানের দ্বারা); বিবুধ্যতে (উপলব্ধি করা যায়)।
সরলার্থ: ব্রহ্মের কখনো জন্ম হয়নি। ইনি নিত্য এবং অভিন্ন। ইনি নির্গুণ, অতএব কল্পনার অতীত। জ্ঞান এবং জ্ঞেয় উভয়ই ব্রহ্ম। এই অজাত এবং অমৃত ব্রহ্ম নিজেকে শাশ্বত জ্ঞানের মাধ্যমে প্রকাশ করেন।
ব্যাখ্যা: ধরা যাক মনের সকল কর্মই মিথ্যা। তাই যদি হয় তাহলে আমরা আত্মাকে কি করে জানব? শাস্ত্র বলেন, মনের দ্বারাই আত্মাকে জানতে হবে। কিন্তু মন যদি না থাকে? তাহলে আত্মাকে জানব কেমন করে?
আত্মাকে অদ্বিতীয় বলা হয়। কারও সঙ্গে আত্মার তুলনা করা যায় না। আত্মা বাক্য-মনের অতীত। এমনকি কল্পনারও অতীত। কোন গুণের দ্বারাই আত্মাকে বিশেষিত করা যায় না। তবু শাস্ত্র বলে আত্মাকে ‘জানতে’ হবে। আবার শাস্ত্রে আত্মাকে জ্ঞানস্বরূপ বলা হয়েছে। এই উক্তি দুটি পরস্পরবিরোধী বলে মনে হয়। জ্ঞানকে কি জানা যায়? জ্ঞান জ্যোতিস্বরূপ, স্বয়ংপ্রকাশ। একটি প্রদীপ দেখতে গেলে আর একটি প্রদীপের আলোর দরকার হয় না। জ্ঞানকে ‘জানা’র অর্থ জ্ঞানের সঙ্গে একাত্ম হয়ে যাওয়া। এই অভিজ্ঞতার সঙ্গে অন্য কিছুর তুলনা চলে না। এর ফলে মানুষটা আমূল পালটে যায়। সে সম্পূর্ণ নতুন মানুষ হয়ে ওঠে।