অদ্বয়ং চ দ্বয়াভাসং মনঃ স্বপ্নে ন সংশয়ঃ।
অদ্বয়ং চ দ্বয়াভাসং তথা জাগ্ৰন্ন সংশয়ঃ॥৩০
অন্বয়: স্বপ্নে চ অদ্বয়ং মনঃ (যখন স্বপ্ন দেখি তখন শুধু মনই আছে); দ্বয়াভাসং ন সংশয়ঃ ([তথাপি] বহুদর্শন হয় এবং সে সম্পর্কে মনে কোন সংশয়ও থাকে না); তথা (একইভাবে); অদ্বয়ং চ জাগ্রৎ (যখন আমরা জাগ্রত, তখনও মন একাই আছে); দ্বয়াভাসং সংশয়ঃ ন (তবুও বহুদর্শন যে হয় সে-বিষয়ে আমাদের কোন সন্দেহ থাকে না)।
সরলার্থ: যখন স্বপ্ন দেখি, তখন মন একাই থাকে। তথাপি আমাদের দুয়ের (জ্ঞাতা এবং জ্ঞেয়র) অভিজ্ঞতা হয়। এবং এ-বিষয়ে আমাদের মনে কোন সংশয়ও থাকে না। সেইরকম জাগ্রত অবস্থাতেও মন দ্বৈত ভূমিকা পালন করে ও জ্ঞাতা এবং জ্ঞেয়র সৃষ্টি করে। এর ফলে বহুদর্শন হয়। আর এই বহুর অস্তিত্ব সম্পর্কে আমাদের কোন সন্দেহ থাকে না। কিন্তু স্বপ্ন ও জাগ্রত—উভয় অবস্থাতেই যা অভিজ্ঞতা হয় তা ভ্ৰমমাত্র।
ব্যাখ্যা: রজ্জুতে যখন সর্পভ্রম হয় তখন তা সম্ভব হয় কারণ দড়ি ও সাপ একাকার হয়ে যায়। একইভাবে যখন স্বপ্ন দেখি তখন মন আত্মার সঙ্গে একাত্ম হয়ে যায় এবং দ্বৈত ভূমিকা অর্থাৎ জ্ঞাতা ও জ্ঞেয়র ভূমিকা পালনে সক্ষম হয়।
ধরা যাক স্বপ্নে হাতি দেখলাম। এখন কোথা থেকে এই হাতিটা এল? কেই বা এই হাতিটাকে দেখছে? উত্তর হল মন। আত্মা এখন মনের মধ্য দিয়ে কাজ করছে। মন একা। কিন্তু সে নিজেকে জ্ঞাতা এবং জ্ঞেয়—এই দুই ভাগে ভাগ করেছে।
জাগ্রত অবস্থাতেও এই একই ঘটনা ঘটে। তখন আমরা বহু দেখি, কিন্তু সেগুলি সবই মনের আরোপ মাত্র। আত্মা এর দ্বারা বিন্দুমাত্র প্রভাবিত হন না। মনই সুখ-দুঃখ অনুভব করে, আত্মা সাক্ষীমাত্র।