যথা স্বপ্নে দ্বয়াভাসং স্পন্দতে মায়য়া মনঃ।
তথা জাগ্রদ্দ্বয়াভাসং স্পন্দতে মায়য়া মনঃ॥২৯
অন্বয়: যথা স্বপ্নে (যেমন স্বপ্নে); মনঃ মায়য়া দ্বয়াভাসং স্পন্দতে (অবিদ্যার প্রভাবে মন দুই দেখে ও তদনুরূপ কর্ম করে [যদিও দুই নেই, এক]); তথা জাগ্রৎ (সেইরকম জাগ্রত অবস্থাতেও); মনঃ মায়য়া (অবিদ্যার প্রভাবে মন); দ্বয়াভাসং স্পন্দতে (দুই দেখে এবং তদনুরূপ কর্ম করে)।
সরলার্থ: স্বপ্নে আমি ছাড়া আর কেউ নেই, তবু অজ্ঞানতাবশত মন দুই দেখে ও সেইমতো কর্ম করে। সেইরকম জাগ্রত অবস্থাতেও মন অবিদ্যার প্রভাবে ভেদদর্শন করে ও তদনুরূপ ব্যবহার করে (বস্তুত দুই নেই, এক। অবিদ্যার কারণে এই ভুল হয়)।
ব্যাখ্যা: মায়া কিভাবে বস্তু উৎপন্ন করে? উত্তর হল দড়িকে ভুল করে যেমন সাপ বলে মনে হয় এও ঠিক তেমনি। মায়ার প্রভাবে মন এই ছলনা করে।
ধরা যাক, স্বপ্নে একটি হাতি দেখলাম। এই দেখাটা আত্মাকে আশ্রয় করে হচ্ছে। আত্মা আছে বলেই এই দেখা সত্য বলে মনে হয়। মন নিজেকে হাতির আকারে আত্মার উপর আরোপ করে। তখন মানসচক্ষুতে হাতি দেখা যায়। মনের তাই এখানে দ্বৈত ভূমিকা: মনই দ্রষ্টা, মনই দৃষ্ট। মায়া মনকে এই দ্বৈত ভূমিকা পালনে অনুপ্রাণিত করে।
জাগ্রত অবস্থাতেও আমাদের দেখাটা এইরকমই।