নেহ নানেতি চাম্নায়াদিন্দ্রো মায়াভিরিত্যপি।
অজায়মানো বহুধা মায়য়া জায়তে তু সঃ॥২৪
অন্বয়: ইহ (ব্রহ্মে); নানা ন ইতি চ (বহু নেই এবং); ইন্দ্রঃ মায়াভিঃ (ঈশ্বর তাঁর মায়ার দ্বারা); ইতি অপি (এই মর্মে); অম্লায়াৎ (শাস্ত্র বলছেন); অজায়মানঃ ([যদিও] জন্ম নেই); সঃ (ঈশ্বর); মায়য়া (মায়ার দ্বারা); তু (কিন্তু); বহুধা জায়তে (বহু হলেন)।
সরলার্থ: ‘ব্রহ্ম এক এবং অদ্বিতীয়, এবং ঈশ্বর মায়ার সাহায্যে বহু হলেন’—শাস্ত্রে এইসব কথা আছে। তাই আমরা জানি যদিও ঈশ্বর জন্মরহিত, তবু নিজ মায়ার দ্বারা বহুরূপে প্রকাশিত হলেন।
ব্যাখ্যা: অদ্বৈততত্ত্বকে কিভাবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়? বৈচিত্রে পূর্ণ এই জগৎ সত্য নয়। সত্য যে নয় তার কারণ শাস্ত্র অকুণ্ঠভাবে ঘোষণা করছে: ‘বহু নেই, কেবল এক আছে।’ দ্বৈতবাদকে খণ্ডন করে এজাতীয় ঘোষণা শাস্ত্রে আরও অনেক আছে। প্রাণের (ইন্দ্রিয়ের) বিষয়ে একটি উপাখ্যান আছে যেখানে দেখানো হয়েছে একমাত্র মনের স্থানই সর্বোচ্চ। আবার আত্মাই একমাত্র সত্য, অন্য সবকিছু মিথ্যা—তা দেখাবার জন্য সৃষ্টির কাহিনী বর্ণনা করা হয়েছে। নিজ মায়াশক্তির দ্বারা আত্মা আপনাকে বহুরূপে প্রকাশ করেন।
কিন্তু মায়া কি? মায়া হল জগৎকে আমরা যেভাবে দেখি। এই দেখাটা ভুল, কারণ তা ইন্দ্রিয়ের দ্বারা লভ্য। আত্মা জন্মরহিত হয়েও বহুরূপে প্রতিভাত হন। এই ভুল দেখার জন্য দায়ী মায়া। যাঁর জন্ম নেই সেই আত্মা কি বহু হতে পারেন? আগুন কি একই সঙ্গে গরম ও ঠাণ্ডা দুই-ই হতে পারে? এ তো স্ববিরোধী কথা।
শাস্ত্র বলে যে ব্যক্তি জানেন একমাত্র আত্মাই আছেন তাঁর আর কোন আসক্তি থাকে না, কোন দুঃখও থাকে না। শাস্ত্র আরও বলে: ‘তুমি যদি বহু দেখ তবে মৃত্যু থেকে মৃত্যুতে তোমাকে বারবার যাওয়া-আসা করতে হবে।’ এ-জাতীয় অসংখ্য শাস্ত্রীয় বিবৃতি পাওয়া যায়। এইসব উক্তির লক্ষ্য একটিই—তা হল অদ্বৈতজ্ঞান।