ভূততোঽভূততো বাঽপি সৃজ্যমানে সমা শ্রুতিঃ।
নিশ্চিতং যুক্তিযুক্তং চ যত্তদ্ভবতি নেতরৎ॥২৩
অন্বয়: ভূততঃ (সত্য); বা অভূততঃ (অথবা অসত্য); সৃজ্যমানে অপি সমা শ্রুতিঃ (সৃষ্টির বিষয়ে শাস্ত্রের সমর্থন সমপরিমাণে আছে); যৎ নিশ্চিতম্ (যা শাস্ত্রের সিদ্ধান্ত); যুক্তিযুক্তং চ (যুক্তি-বিচারের দ্বারাও সমর্থিত); তৎ ভবতি (সেটিকে স্বীকার করে নিতে হবে); ন ইতরৎ (অন্য কিছু নয়)।
সরলার্থ: সত্য বা অসত্য—দুই প্রকার সৃষ্টির প্রসঙ্গেই শাস্ত্র সমানভাবে বলে গেছেন। এই অবস্থায় শুধুমাত্র যে সিদ্ধান্ত শাস্ত্রে আছে এবং বিচার-বুদ্ধি দ্বারাও যা সমর্থিত তাকেই গ্রহণ করতে হবে, অন্য কিছু নয়।
ব্যাখ্যা: শাস্ত্র কেন সৃষ্টির কথা বলেছেন—অদ্বৈতবাদীরা আবার তার ব্যাখ্যা দিচ্ছেন। দ্বৈতবাদ খণ্ডন ও অদ্বৈতবাদ প্রতিষ্ঠার জন্যই শাস্ত্র সৃষ্টি-প্রসঙ্গে কথা বলেছেন। অদ্বৈততত্ত্ব গ্রহণে মনকে প্রস্তুত করে তোলার এটি একটি উপায়মাত্র।
আরও স্পষ্ট করে বলতে গেলে বলতে হয় যে—‘তিনি সৃষ্টি করলেন’ অথবা ‘তিনি স্থূল ও সূক্ষ্ম উভয়ই হলেন’—এজাতীয় শাস্ত্রীয় উক্তি অদ্বৈতবাদের বিরোধী নয়। আসলে আত্মার ‘সৃষ্টি’ও নেই, ‘হয়ে ওঠা’ও নেই কারণ আত্মা সতত অবিকৃত। কর্ম বা পরিবর্তনের ধারণা আত্মার ক্ষেত্রে অপ্রযোজ্য। তাহলে এজাতীয় শাস্ত্রীয় উক্তির ব্যাখ্যা কি করে হয়? উত্তর হল—বস্তুত আত্মার কোন পরিবর্তন হয় না এবং আত্মায় কর্মেরও কোন স্থান নেই। আত্মার মায়াশক্তির প্রভাবে আমাদের ধারণা হয় যেন তিনি পরিবর্তিত হচ্ছেন, যেন কর্ম করছেন। জাগ্রত বা স্বপ্নাবস্থায় মনে হতে পারে যে সৃষ্টি হচ্ছে কিন্তু উভয় ক্ষেত্রেই ব্যাপারটি সত্য নয়। আত্মাই একমাত্র সত্য—আর সব মিথ্যা। শাস্ত্র বলে ‘আত্মা অন্তরে ও বাইরে সর্বত্র বিরাজমান, এক ও অদ্বিতীয়। আত্মাই সত্য, জ্ঞান। আত্মাই ব্রহ্ম—তাঁর জন্মও নেই, মৃত্যুও নেই।’ শাস্ত্র এবং যুক্তি উভয়ই এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে।