মৃল্লোহবিস্ফুলিঙ্গাদ্যৈঃ সৃষ্টির্যা চোদিতাঽন্যথা।
উপায়ঃ সোঽবতারায় নাস্তি ভেদঃ কথঞ্চন॥১৫
অন্বয়: মৃল্লোহবিস্ফুলিঙ্গাদ্যৈঃ (মাটি, লোহা, অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ও অন্যান্য এই জাতীয় দৃষ্টান্ত দ্বারা); অন্যথা (নানা উপায়ে); যা সৃষ্টিঃ চোদিতা (সৃষ্টিকার্য ব্যাখ্যা করা হয়েছে); সঃ (সেই [সৃষ্টি]); অবতারায় উপায়ঃ (মনকে প্রস্তুত করার জন্য [অদ্বৈতজ্ঞান লাভের উপযুক্ত করার জন্য]); কথঞ্চন ভেদঃ ন অস্তি (কিছুমাত্র ভেদ নেই)।
সরলার্থ: যদিও শাস্ত্রে মাটি, লোহা, অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ইত্যাদি দৃষ্টান্ত দিয়ে নানাভাবে সৃষ্টিপ্রক্রিয়া ব্যাখ্যা করা হয়েছে তা শুধু অদ্বৈততত্ত্বের জন্য মনকে প্রস্তুত করার উদ্দেশ্যে। বস্তুত এর মধ্যে কিছুমাত্র ভেদ নেই, দুই নেই।
ব্যাখ্যা: সৃষ্টি এবং দ্বিতত্ত্বের অস্তিত্ব অদ্বৈতবাদীরা স্বীকার করেন না। দুই-ই অলীক। ঘটাকাশ ও পটাকাশ যেমন দুই নয়, এক ও অভিন্ন, সেইভাবে সৃষ্টি ও স্রষ্টা আলাদা নয়, এক।
তবু শাস্ত্রে সৃষ্টি ও দ্বিতত্ত্বের যে উল্লেখ আছে, তা শুধু এই দুটি তত্ত্বের অসারতা বোঝাবার জন্য—অদ্বৈতবাদীরা এরকমই বলে থাকেন। তাঁরা আরও বলেন যে দ্বৈতবাদ নানা বিতর্কের সৃষ্টি করে। দৃষ্টান্তস্বরূপ তাঁরা দেবাসুরের যুদ্ধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। দেবতাদের মন শুদ্ধ ও নিঃস্বার্থপর, তাই তাঁদের জয় হয়েছিল। অদ্বৈততত্ত্ব ধারণা করার জন্য মনের কিরকম প্রস্তুতি দরকার তা বোঝাতেই এই ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।
অবশ্য শাস্ত্রে সৃষ্টির কাহিনীও বর্ণনা করা আছে। মনকে অদ্বৈতজ্ঞানের উপযুক্ত করার জন্যেই এইসব কাহিনীর অবতারণা করা হয়েছে। একইসঙ্গে সৃষ্টি এবং ভেদদর্শনকে মনের ভুল বলে নিন্দাও করা হয়েছে—ঠিক যেমনভাবে বলা হয় ঘটাকাশের কখনো উৎপত্তি হয়নি এবং এর কোন বাস্তব অস্তিত্বও নেই।
লক্ষণীয় ব্যাপার হল একই শাস্ত্রে আবার বহু অদ্বৈতবোধক উক্তিও রয়েছে। যেমন ‘তিনি এক এবং অদ্বিতীয়’ (ছান্দোগ্য উপনিষদ ৬।২।২)। ‘সে-ই সত্য, সে-ই আত্মা, এবং তুমিই সে।’ (ছান্দোগ্য উপনিষদ ৬।৮।৭)।