রসাদয়ো হি যে কোশা ব্যাখ্যাতাস্তৈত্তিরীয়কে।
তেষামাত্মা পরো জীবঃ খং যথা সংপ্রকাশিতঃ॥১১
অন্বয়: তৈত্তিরীয়কে (তৈত্তিরীয় উপনিষদে); রসাদয়ঃ (খাদ্য ও অন্যান্য বস্তুর সার); যে হি কোশাঃ (কোষগুলি); ব্যাখ্যাতাঃ (স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে); খং যথা (আকাশের মতো); পরঃ (পরমাত্মা); তেষাম্ (ঐ কোষের); আত্মা (আত্মা); জীবঃ (জীবাত্মা); সংপ্রকাশিতঃ (বর্ণনা করা হয়েছে)।
সরলার্থ: তৈত্তিরীয় উপনিষদে দেহের বিভিন্ন সার পদার্থগুলিকে কোষরূপে বর্ণনা করা হয়েছে। পরমাত্মা, যিনি আকাশের মতো, এইসব কোষগুলি দ্বারা বেষ্টিত থাকেন। তখন তাঁকে আমরা বলি জীবাত্মা।
ব্যাখ্যা: এখানে জীবাত্মার সঙ্গে পরমাত্মার সম্পর্ক বর্ণনা করা হয়েছে। পরমাত্মা সর্বব্যাপী আকাশের মতো, আর জীবাত্মা যেন ঘটাকাশ। ঘটের ভিতরে ও বাইরে যেমন একই আকাশ আছে, আত্মাও তেমনি এক।
পরমাত্মা দেহ ধারণ করলে তাঁকে বলি জীবাত্মা বা জীব। দেহটা সত্য নয়, উপাধিমাত্র। দেহের মধ্যে পাঁচটি কোষ আছে—প্রতিটি কোষই খাদ্যরসের দ্বারা পুষ্ট। স্থূল থেকে সূক্ষ্ম যথাক্রমে এই পাঁচটি কোষ হল—অন্নময় কোষ, প্রাণময় কোষ, মনোময় কোষ, বিজ্ঞানময় কোষ ও আনন্দময় কোষ। তৈত্তিরীয় উপনিষদে এই কোষগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হয়েছে।
সব কোষেই পরমাত্মা বিদ্যমান। ঘটের দ্বারা যেমন আকাশ খণ্ডিত হয় না তেমনি পরমাত্মাও এই কোষগুলির দ্বারা বিভক্ত হয়ে যান না।