নাত্মভাবেন নানেদং ন স্বেনাপি কথঞ্চন।
ন পৃথঙ্ নাপৃথক্ কিঞ্চিদিতি তত্ত্ববিদো বিদুঃ॥৩৪
অন্বয়: নানা (বিভিন্ন নাম-রূপসহ); ইদম্ (এই জগৎ); আত্মভাবেন ন (আত্মার মতো নয়); স্বেন অপি (স্বাধীনভাবে); কথঞ্চন ন (কোনও বস্তু নয়); কিঞ্চিৎ পৃথক্ ন (এতটুকু আলাদা নয় [আত্মার থেকে]); ন অপৃথক্ (আত্মার মতোও নয়); তত্ত্ববিদঃ ইতি বিদুঃ (প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা তাঁকে এইভাবে জানেন)।
সরলার্থ: এই জগৎ বিভিন্ন নাম-রূপের সমষ্টি। আত্মার মতো এ জগৎ স্বয়ংপ্রকাশিত এবং স্বতন্ত্র কোন সত্তা নয়। বস্তুত আত্মা ছাড়া কোন কিছুরই অস্তিত্ব নেই। আবার আত্মার সদৃশ কিছু নেই। প্রাজ্ঞ ব্যক্তিরা এভাবেই আত্মাকে দেখে থাকেন।
ব্যাখ্যা: অদ্বৈততত্ত্বকে স্বাগত জানানো হচ্ছে কেন? দুটি ভিন্ন বস্তু একসাথে থাকলে সেখানে বিরোধের সম্ভাবনা থাকে। যেমন ধরা যাক, মানুষ ও একটি সাপ একসাথে আছে। এরা সবসময়ই একে অপরকে সন্দেহ করে। তাই তারা কখনো শান্তি পায় না।
কিন্তু ধরা যাক, কোন বস্তু আর একটি বস্তুর উপর আরোপিত, দড়ির উপর সাপ যেমন আরোপিত। অন্ধকারে দড়িকে সাপ মনে করে আমি ভয় পাই। কারণ অন্ধকারে, আমি সেখানে দড়িকে দড়ি বলে দেখতে পাই না সাপ হিসাবে দেখি। কিন্তু আলো এলে বুঝতে পারি আরে, এটা তো সাপ নয়, এ যে দড়ি!
একইভাবে এই জগৎও আত্মার উপর আরোপিত। প্রকৃতপক্ষে জগৎ সত্য নয়, আত্মার উপর আরোপিত বলে জগৎকে সত্য বলে মনে হয়। আত্মজ্ঞান লাভ হলে বোঝা যায় যে, জগতের কোনও পৃথক অস্তিত্ব নেই। তখন আমরা আমাদের ভুল বুঝতে পারি। তখন এই জগৎ আর এর বৈচিত্র আমাদের চোখে ধরা পড়ে না। এমনকি মানুষ ও সাপের মধ্যে যে ভেদ তাও ঘুচে যায়। সবকিছু তখন একে লীন হয়ে যায়।
দুই বোধই হল আমাদের সব দুঃখ-কষ্টের মূল। তাই অদ্বৈততত্ত্বই কাম্য।