ন নিরোধো ন চোৎপত্তির্ন বদ্ধো ন চ সাধকঃ।
ন মুমুক্ষুর্ন বৈ মুক্ত ইত্যেষা পরমার্থতা॥৩২
অন্বয়: ন নিরোধঃ (প্রকৃতপক্ষে শেষ বলে কিছু নেই); ন চ উৎপত্তিঃ (এবং শুরু বলেও কিছু নেই); ন বদ্ধঃ (কেউই বদ্ধ নয়); ন চ সাধকঃ (সাধক বলে কেউ নেই অর্থাৎ কারও মুক্ত হবার চেষ্টাও নেই); ন মুমুক্ষুঃ (কারও মুক্তির ইচ্ছা নেই); ন বৈ মুক্তঃ (কেউই মুক্ত নয়); ইতি এষা পরমার্থতা (এই পরম সত্য)।
সরলার্থ: জন্ম বা মৃত্যু বলে কিছু নেই। কেউই সংসারে বদ্ধ নয়। কারও মুক্ত হবার চেষ্টা বা ইচ্ছার অবকাশ নেই, কারণ তুমি তো মুক্ত হয়েই আছ। এই পরম সত্য।
ব্যাখ্যা: গৌড়পাদের সিদ্ধান্ত হলঃ ‘ন নিরোধঃ’—আমার মৃত্যু নেই; আবার ‘ন চ উৎপত্তিঃ’—আমার জন্ম বলেও কিছু নেই। কারণ আমিই সেই আত্মা। ‘ন বদ্ধঃ’—আমি কখনো বদ্ধ ছিলাম না। ‘ন সাধকঃ’—আর আমার যদি কোন বন্ধনই না থাকে তবে সাধনা করব কিসের জন্য? আমরা নিজেদের বদ্ধ বলে মনে করি বলেই তো মুক্তি লাভ করার জন্য সাধনা করি। আমার কোন কিছু পাবার আকাঙ্ক্ষা নেই। ‘ন মুমুক্ষুঃ’—মোক্ষলাভের ইচ্ছাও আমার নেই। যদি আমি মুক্তই হই তবে কেনই বা আমি মুক্তির চেষ্টা করব? ‘ন বৈ মুক্তঃ’—আমি মোক্ষলাভ করেছি এমনও নয়। কারণ আমি তো নিত্যমুক্ত, সবসময়ই মুক্ত।
মূল কথাটি এই, এর আগে আমি যদি আত্মা না হয়ে থাকি তবে আমি কখনই আত্মা হতে পারব না। যদি ইতিপূর্বেই আমি মুক্ত না হয়ে থাকি তবে আমি কোন দিনই মুক্ত হতে পারব না। আমি হয়তো নিজেকে বদ্ধ, দুর্বল, অসহায়, দুঃখী বলে মনে করি, কিন্তু এসবই অবিদ্যা অর্থাৎ অজ্ঞানতা। ‘তৎ ত্বম্ অসি’—‘তুমিই সেই’। অর্থাৎ তুমি তো ব্রহ্মই হয়ে আছ, তুমি ব্রহ্ম ছাড়া আর কিছুই নও। এই হল চরম সত্য (ইতি এষা পরমার্থতা)।