স্বপ্নমায়ে যথা দৃষ্টে গন্ধর্বনগরং যথা।
তথা বিশ্বমিদং দৃষ্টং বেদান্তেষু বিচক্ষণৈঃ॥৩১
অন্বয়: যথা (ঠিক যেমন); স্বপ্নমায়ে (স্বপ্ন এবং দৃষ্টিবিভ্রম); দৃষ্টে (আপাতদৃষ্টিতে দুটোকেই সত্য বলে দেখ); যথা (ঠিক যেমন); গন্ধর্বনগরম্ (আকাশে নির্মিত প্রাসাদ [গন্ধর্ব নামক অতিমানবিক কারও দ্বারা তৈরি অর্থাৎ আকাশকুসুম কল্পনা]); তথা (সেই প্রকার); বেদান্তেষু (বেদান্তে); বিচক্ষণৈঃ (পণ্ডিতদের দ্বারা); ইদম্ (এই); বিশ্বম্ (বিশ্ব); দৃষ্টম্ (দেখা যায়)।
সরলার্থ: যখন আমরা স্বপ্নে কোন বস্তুকে দেখি বা এক বস্তুর স্থলে অন্য কোন বস্তুকে দেখি, ভুলবশত সেগুলিকেই আমরা সত্য বলে মনে করি। (কিন্তু পরে বুঝতে পারি যে, এগুলি আদতে সত্য নয়।) গন্ধর্বনগরের মতো এ যেন আকাশকুসুম কল্পনা। বেদান্তবাদীরা এ সত্য জানেন এবং এই জগৎকে মিথ্যা বলে মনে করেন।
ব্যাখ্যা: আমরা বিচার-বুদ্ধির সাহায্যে বলতে পারি এ জগৎ মিথ্যা। বেদান্তও এই সিদ্ধান্তকে সমর্থন করে। শাস্ত্র বলেন, আমাদের স্বপ্নের অভিজ্ঞতা বা আমরা যে ভুল দেখি, এই দুই মিথ্যা। শাস্ত্রের স্পষ্ট নির্দেশ হলঃ প্রকৃতপক্ষে এ জগতের সবকিছুই আত্মা [বৃহদারণ্যক উপনিষদ, ২।৪।৬], এবং আত্মা এক ও অদ্বিতীয় [ছান্দোগ্য উপনিষদ, ৬।২।১]।
আত্মজ্ঞান লাভ হলে তখন আর দুই বলে কিছু থাকে না। জ্ঞাতা এবং জ্ঞেয় এক হয়ে যায়। যিনি প্রকৃত জ্ঞানী তিনি সর্বত্রই এই ‘এক’ অর্থাৎ আত্মাকে দেখেন। তিনি দ্বৈতবুদ্ধির দ্বারা কখনো বিভ্রান্ত হন না। তিনি জানেন যে দড়িই সত্য, সাপ নয়। তাই তাঁর কাছে আত্মাই একমাত্র সত্য, এ জগৎ নয়।