যং ভাবং দর্শয়েদস্য তং ভাবং স তু পশ্যতি।
তং চাবতি স ভূত্বাহসৌ তদ্গ্রহঃ সমুপৈতি তম্॥২৯
অন্বয়: যস্য যং ভাবং দর্শয়েৎ (যেভাবে সে বস্তুকে দেখতে শিখেছে); সঃ তং ভাবং তু পশ্যতি (সেভাবেই সে বস্তুটিকে গ্রহণ করে); অসৌ সঃ ভূত্বা (সে ঐ বস্তুতে পরিণত হয়); তং চ অবতি (বস্তুটি তাকে রক্ষা করে); তৎ গ্রহঃ (ঐ বস্তুতে তার মগ্নতা); তং সমুপৈতি (তাকে পুরোপুরি গ্রাস করে)।
সরলার্থ: আমার জীবনের উদ্দেশ্য কি, এই সম্পর্কে আচার্য আমাকে উপদেশ দিচ্ছেন। উদ্দেশ্যটি কোন বস্তু বা ভাব হতে পারে। সেই বস্তুকে বা ভাবটিকে আমি আমার জীবনের উদ্দেশ্যরূপে গ্রহণ করেছি। এর ফলে আমার মধ্যে পরিবর্তন দেখা দেয় এবং আমি ক্রমে ঐ ব্যক্তিতে (যা আমার লক্ষ্য) পরিণত হই। এই পরিবর্তনসমূহ আমাকে রক্ষা করে রাখে। আমার লক্ষ্যে আমি তখন এতই মগ্ন যে অন্য আর কিছু আমার মনকে আকর্ষণ করতে পারে না।
ব্যাখ্যা: এই মায়া থেকে বেরিয়ে আসার উপায় কি? আমরা এক্ষেত্রে আচার্যের সাহায্য নিতে পারি। এই আচার্য কোন ব্যক্তি হতে পারেন, আবার শাস্ত্র; যেমন উপনিষদও হতে পারেন। কিন্তু আসল কথা হল যেমন করেই হোক অজ্ঞানতাকে দূর করতে হবে। অন্ধকারে রাস্তায় একটুকরো দড়ি পড়ে আছে। তা দেখে আমি সেটাকে সাপ বলে মনে করেছি। ভয় পেয়ে আমি তখন সাপ সাপ বলে চিৎকারও করলাম। কিন্তু একজন আলো এনে আমাকে দেখালো ওটি সাপ নয়, একটুকরো দড়ি। একইভাবে অন্ধকারের আবরণ সত্যকে ঢেকে রয়েছে। মায়ার উৎপত্তি এরই থেকে। আচার্য যখন জ্ঞানের আলো নিয়ে আসেন তখনি আমরা আসল বস্তুটিকে অর্থাৎ সত্যকে দেখতে পাই।
এই জগতে আমাদেরকে কে রক্ষা করে? শুধুমাত্র জ্ঞান। এই কারণেই জ্ঞানকে অন্য সবকিছুর থেকে বেশি শক্তিশালী বলে মনে করা হয়। হিন্দুদর্শনে জ্ঞানকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। একমাত্র ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করলেই আমরা মুক্ত হয়ে যাই। যখন আমরা চরম সত্যকে জানি তখনি আমরা মুক্ত। আচার্য আমাদেরকে এই জ্ঞানই দেন এবং এই জ্ঞানই আমাদেরকে সবকিছু থেকে রক্ষা করে।
আত্মজ্ঞান লাভ করলে আমরা বদলে যাই। অর্থাৎ অন্য এক মানুষে পরিণত হই। এখন আমরা নিজেদের আত্মার থেকে আলাদা বলে মনে করি। নিজ আত্মার কাছে আমরা নিজেরাই যেন অপরিচিত। আমরা আমাদের প্রকৃত পরিচয় জানি না। আত্মজ্ঞান লাভ করলে আমরা আমাদের প্রকৃত পরিচয় জানতে পারি। আমরা তখন নিজ আত্মাতে লীন হয়ে যাই। কোন কিছুই আমাদের মনকে তখন চঞ্চল করতে পারে না।