প্রাণাদিভিরনন্তৈশ্চ ভাবৈরেতৈর্বিকল্পিতঃ।
মায়ৈষা তস্য দেবস্য যযায়ং মোহিতঃ স্বয়ম্॥১৯
অন্বয়: এতৈঃ (এইসব); প্রাণাদিভিঃ (প্রাণ [প্রাণবায়ু] ইত্যাদি); অনন্তৈঃ ভাবৈঃ (অসংখ্য বস্তু); বিকল্পিতঃ (কল্পনা করা হয়েছে); তস্য দেবস্য (সেই স্বয়ং প্রকাশিত আত্মার); এষা মায়া (মায়ার এই মোহিনীশক্তি); যযা অয়ং স্বয়ং মোহিতঃ (যার দ্বারা আত্মা নিজেকেই মুগ্ধ করে)।
সরলার্থ: এই আত্মা অদ্বিতীয়। এই আত্মাকে প্রাণ ইত্যাদি বহু রূপে কিভাবে দেখা যায়? এটি সম্ভব হয় আত্মার নিজ শক্তি অর্থাৎ মায়ার প্রভাবে। বহু বস্তুকে দেখা ঠিক দেখা নয়। এ আমাদের মনের ভুল। এক আত্মাই নিজ শক্তি অর্থাৎ মায়ার প্রভাবে বহু হয়েছেন। বহু এই একের উপরই অর্থাৎ ‘আত্মার’ উপরই আরোপিত। আত্মা যেন নিজ মায়াতে নিজেই মুগ্ধ।
ব্যাখ্যা: যদি একথা সত্য হয় যে, আত্মা এক ও অদ্বিতীয়, তবে এই আত্মা নিজেকে বহুরূপে প্রকাশ করেন কিভাবে? কেমন করেই বা একমাত্র আত্মাকে আমরা আমাদের চারপাশের নানা বস্তুরূপে দেখতে পাব? উত্তরে বলা যায় এ মায়ার দ্বারাই সম্ভব হয়। মায়া স্বয়ংপ্রকাশিত চৈতন্যস্বরূপ আত্মারই শক্তি। যাদুকর নানা কৌশলে যাদু দেখায়। যেমন সে হয়তো শূন্যে বাগানও তৈরি করতে পারে। এ আমাদের মনের ভুল। কিন্তু যখন আমরা খেলাটা দেখি তখন এটাকে ভুল বলে মনে হয় না। সেইভাবে আত্মা আমাদের চারপাশের নানা বস্তুরূপে নিজেকে প্রকাশ করেন। আর এই কাজটি তিনি তাঁর নিজ মায়াশক্তির সাহায্যেই করেন। আত্মা যেন নিজ মায়াতে নিজেই মুগ্ধ হয়ে আছেন। ভগবদ্গীতা বলছেন (৭।১৪) : ‘আমার মায়াশক্তিকে অতিক্রম করা কঠিন।’