নিশ্চিতায়াং যথা রজ্জ্বাং বিকল্পো বিনিবর্ততে।
রজ্জুরেবেতি চাদ্বৈতং তদ্বদাত্মবিনিশ্চয়ঃ॥১৮
অন্বয়: যথা (ঠিক যেমন); রজ্জুঃ এব (এটি দড়ি ছাড়া আর কিছুই নয়); নিশ্চিতায়াম্ (যখন স্থির হল); রজ্জ্বাম্ (দড়ির উপরে); বিকল্পঃ (এটা সাপ বা ঐ জাতীয় অন্য কিছু বলে মনে করা); বিনিবর্ততে (পুরোপুরি অস্বীকার করা); অদ্বৈতম্ ([তারপর যা বাকী থাকে] একটিমাত্র বস্তু [অর্থাৎ দড়িটি]); তদ্বৎ (একইভাবে [অর্থাৎ শাস্ত্রপাঠের দ্বারা যখন অজ্ঞানতা দূর হয়]); আত্মা বিনিশ্চয়ঃ (তখন তুমি তোমার প্রকৃত পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত [অর্থাৎ তুমিই পরমাত্মা])।
সরলার্থ: সেখানে দড়ি ছাড়া আর কিছুই নেই, কিন্তু অন্ধকারের জন্য আমরা দড়িকে সাপ বলে মনে করছি। আলো এলেই আমরা বুঝতে পারি ওটা সাপ নয় আসলে দড়ি। ঠিক একইভাবে শাস্ত্রপাঠের দ্বারা নিজ স্বরূপ সম্বন্ধে আমাদের যে অজ্ঞানতা তা দূর হয়। তখন আমরা উপলব্ধি করি আমরাই পরমাত্মা (যা নিত্যমুক্ত, এবং জন্মমৃত্যুরহিত)।
ব্যাখ্যা: আমরা কখনো কখনো অন্ধকার জায়গায় পড়ে থাকা দড়িকে সাপ বলে ভুল করে থাকি। কিন্তু আলো নিয়ে এলে আমরা দেখি সেখানে আদৌ কোন সাপ ছিল না। আসলে ওটা একটা দড়ি।
একইভাবে, আমরা সংসারজালে বদ্ধ, একথা মনে করাও ভুল। আমরা আমাদের এই দেহটাকে ‘আমি’ বলে মনে করি এবং ভাবি আমরা পরিবেশের দাস। আমরা তাই সবসময় মৃত্যুভয়ে তাড়িত।
এই মায়াজাল থেকে বেরিয়ে আসার উপায় হল শাস্ত্রপাঠ এবং অনিত্য বস্তুকে ত্যাগ করা। এই অভ্যাসের ফলে ক্রমে আমার মধ্যে এই জ্ঞানের উদয় হয় যে, আমি জীবাত্মা নই, পরমাত্মা। তখন নিখিল জগতের সাথে আমি একাত্মতা অনুভব করে থাকি। তখন আমিই সকলের অন্তরাত্মা। আমার কখনো জন্ম হয়নি, আবার আমার মৃত্যুও হবে না। ‘আমি’ নিত্য, মুক্ত, সর্বব্যাপী ও সর্বজ্ঞ।
সূর্য উদয় হলে আর কোন অন্ধকার থাকে না। ঠিক সেইরকম, যখন আমরা আত্মজ্ঞান লাভ করি তখন আমাদের সকল ভুলভ্রান্তির নাশ হয়। আমরা তখন উপলব্ধি করি আমরা পরমাত্মা ছাড়া আর কিছু নই।