অব্যক্তা এব যেঽন্তস্তু স্ফুটা এব চ যে বহিঃ।
কল্পিতা এব তে সর্বে বিশেষস্ত্বিন্দ্রিয়ান্তরে।১৫
অন্বয়: অন্তঃ (মনে); যে অব্যক্তা এব (মনগড়া বস্তুর ছদ্মবেশে কামনা-বাসনা); বহিঃ (মনের বাইরে); যে চ (ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুসকল); স্ফুটাঃ (স্পষ্টতই দৃষ্ট); তে সর্বে এব (ওগুলি সব); কল্পিতাঃ (মনের কল্পনাপ্রসূত); ইন্দ্রিয়ান্তরে তু বিশেষঃ (ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অনুভূতিসকল পরিবর্তনশীল)।
সরলার্থ: আমাদের মনে বহু বাসনা থাকে যদিও সেগুলি অস্পষ্ট কল্পনামাত্র। বহির্জগতের বস্তুগুলি খুবই স্পষ্ট হতে পারে। কিন্তু এ সবই কল্পনাপ্রসূত। আমরা যে এই বস্তুগুলিকে বিভিন্নভাবে প্রত্যক্ষ করি তারজন্য ইন্দ্রিয়গুলিই দায়ী।
ব্যাখ্যা: কোন একটি অবস্থায় ব্যক্তি ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে কাজ করে থাকে। এই সময়ে সে দেখে, শোনে বা আহার করে। বাহ্য ইন্দ্রিয়ের সাহায্যে তার এইসব অভিজ্ঞতা হয়। আবার মনের দ্বারাও সে বস্তুর অভিজ্ঞতা লাভ করে। সে হয়তো স্বপ্ন দেখছে কিংবা জাগ্রত অবস্থাতেই মনে মনে কোন চিন্তা বা কল্পনা করছে। সাধারণত এই মানস কল্পনাগুলি খুব স্পষ্ট নয়। কিন্তু কোন কোন সময়ে আমাদের কল্পনা এতই স্পষ্ট ও জোরালো হয় যে সেগুলিকে প্রায় সত্য বলেই মনে হয়। যেমন আমরা কল্পনা করতে পারি আমরা কাশীতে মন্দির দর্শন করতে গেছি এবং সেখানে একাকী গঙ্গার ঘাটে বেড়াচ্ছি। আমরা মনে মনে এইসব বস্তুকে কত স্পষ্টভাবে দেখছি, তবুও সেগুলি কল্পনা ছাড়া আর কিছুই নয়। সেই অভিন্ন আত্মাই এইসব অবস্থার মধ্য দিয়ে নানা অভিজ্ঞতা প্রাপ্ত হন। উভয়ের মধ্যে পার্থক্য হল এইসব অভিজ্ঞতা হয় কখনো বহিরিন্দ্রিয়ের দ্বারা কখনো বা মনের দ্বারা। যখন স্বপ্ন দেখি তখনও আমি কিন্তু সেই একই ব্যক্তি যে একটু আগেই জেগে ছিল। গৌড়পাদ বলছেন যে বাহ্য বা অভ্যন্তরীণ উভয় অভিজ্ঞতাই কল্পনাপ্রসূত, মিথ্যা এবং অনিত্য।