জাগ্রদ্বৃত্তাবপি ত্বন্তশ্চেতসা কল্পিতং ত্বসৎ।
বহিশ্চেতোগৃহীতং সদ্যুক্তং বৈতথ্যমেতয়োঃ॥১০
অন্বয়: জাগ্রদ্বৃত্তৌ অপি তু (জাগ্রত অবস্থাতেও); অন্তঃ (দেহের অভ্যন্তরে); চেতসা কল্পিতম্ (মনের সৃষ্ট বস্তুসমূহ); তু অসৎ (অবশ্যই মিথ্যা); বহিঃ (দেহের বাইরে); চেতোগৃহীতম্ (চোখ এবং অন্যান্য ইন্দ্রিয়ের দ্বারা অনুভূত); সৎ (সত্যরূপে); এতয়োঃ ([যে] এই উভয়ই); বৈতথ্যং যুক্তম্ (মিথ্যা—একথা যুক্তিযুক্ত)।
সরলার্থ: জাগ্রত অবস্থাতেও আমরা নানারকম কল্পনা করে থাকি। আমরা জানি এ সবই মিথ্যা। কিন্তু বাহ্যজগতে বস্তুকে দেখতে পাই বলে আমরা সেগুলিকে সত্য বলে মনে করি। কিন্তু এই দুই অভিজ্ঞতাই মিথ্যা। যুক্তি দ্বারা এ সিদ্ধান্তটি সমর্থনযোগ্য।
ব্যাখ্যা: পূর্ববর্তী শ্লোকের মতো এখানেও গৌড়পাদ বলছেন যে, জাগ্রত অবস্থাতেও মানুষ নানা কল্পনা করে। যেমন, আমি হয়তো ভাবছি আমি ইংল্যাণ্ড যাচ্ছি। এটা কি সত্য? না, আমি জানি এ আমার শুধুই কল্পনা, হঠাৎ মনে ওঠা চিন্তামাত্র। আবার আমার অনেক বাস্তব অভিজ্ঞতাও আছে। যেমন আমি আমার বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলছি। গৌড়পাদ এখানে বলছেন যে, একথা যুক্তির দ্বারা প্রমাণিত আমার জাগ্রত অবস্থার অভিজ্ঞতা স্বপ্ন অবস্থার অভিজ্ঞতার মতোই মিথ্যা। এখন আপত্তি উঠতে পারে : ‘আমি কল্পনা করছি আমি ইংল্যাণ্ড যাচ্ছি, কিন্তু আমি জানি যে একথা সত্য নয়। আসলে আমি কোথাও যাচ্ছি না। কিন্তু আমি হয়তো কারও সাথে কথা বলছি তবে তাকে মিথ্যা বলব কেমন করে?’ গৌড়পাদ বলছেন যে, আমাদের উভয় অভিজ্ঞতারই আরম্ভ ও শেষ আছে। ঘুমন্ত অবস্থায় আমার কাছে এই বাহ্য জগতের কোনও অস্তিত্ব থাকে না। আবার জাগ্রত অবস্থায় আমি হয়তো অন্যমনস্ক হয়ে আছি তখন আমার সামনে কেউ দাঁড়িয়ে থাকলেও আমি হয়তো তাকে দেখতে পাচ্ছি না। অনেক সময়ে একথা বলা হয় এ জগৎ মনেরই সৃষ্টি। আমার মনই তোমাকে সৃষ্টি করেছে। তুমি আমার সামনে দাঁড়িয়ে থাকলেও আমি কিন্তু তোমাকে তোমার স্বরূপে দেখি না। তোমার উপস্থিতি আমার কল্পনাকে নাড়া দিয়ে যায় মাত্র। তখন আমার মন সেই কল্পনা অনুযায়ী তোমাকে সৃষ্টি করে। তোমার উপস্থিতি এখানে উদ্দীপকের কাজ করে। অর্থাৎ এটি আমাকে কল্পনা করতে সাহায্য করে—এইমাত্র।