ইচ্ছামাত্রং প্রভোঃ সৃষ্টিরিতি সৃষ্টৌ বিনিশ্চিতাঃ।
কালাৎপ্রসূতিং ভূতানাং মন্যন্তে কালচিন্তকাঃ॥৮
অন্বয়: প্রভোঃ ইচ্ছামাত্রম্ (প্রভুর ইচ্ছামাত্রেই); সৃষ্টিঃ (এই জগৎ [অস্তিত্ব লাভ করল]); ইতি সৃষ্টৌ (সৃষ্টি বিষয়ে); বিনিশ্চিতাঃ (এটাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত); কালচিন্তকাঃ (জ্যোতির্বিদগণ); ভূতানাং কালাৎ প্রসূতিং মন্যন্তে (বস্তু সৃষ্টির জন্য কালকে দায়ী করেন)।
সরলার্থ: যাঁরা সৃষ্টিতত্ত্বে বিশ্বাসী তাঁরা মনে করেন যে, ঈশ্বরের ইচ্ছামাত্রেই এই জগতের সৃষ্টি। কিন্তু জ্যোতির্বিদগণ মনে করেন কাল থেকেই সর্বভূতের উৎপত্তি হয়েছে।
ব্যাখ্যা: কিন্তু এই জগতের উৎপত্তি হল কেমন করে? গৌড়পাদ বলেন যাঁরা সৃষ্টিতত্ত্বে বিশ্বাসী তাঁদের মতে এই জগতের সৃষ্টি হল ঈশ্বরের ইচ্ছাশক্তির প্রভাবে, ‘ইচ্ছামাত্রং’—শুধুমাত্র তাঁর ইচ্ছার দ্বারা। বাইবেলে যেমন আছে, ঈশ্বর বললেন ‘আলো হউক’ এবং আলোর সৃষ্টি হল।
অন্য আর এক শ্রেণীর মানুষ আছেন (কালচিন্তকাঃ) যাঁরা মনে করেন কালই বিশ্বচরাচরের উৎস। তাঁরা কালকেই সবকিছুর স্রষ্টা বলে মনে করেন। এই হল বিবর্তনবাদী অর্থাৎ বিজ্ঞানীদের অভিমত। এই বিজ্ঞানীরা স্রষ্টার অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না। তাঁরা মনে করেন, কালের নিয়মেই এই জগতের সৃষ্টি হয়েছে এবং তার পরে প্রাণ এসেছে। শুরুতে প্রাণ বলে কিছু ছিল না, প্রাণের প্রকাশ পরবর্তী স্তরে। কিন্তু একথা হিন্দুদর্শন স্বীকার করেন না। হিন্দুমতে প্রাণের অস্তিত্ব শুরু থেকেই ছিল, তবে তা ছিল অব্যক্ত। পরবর্তীকালে তা ব্যক্ত বা প্রকাশিত হয়।