ত্ৰিষু ধামসু যদ্ভোজ্যং ভোক্তা যশ্চ প্রকীর্তিতঃ।
বেদৈতদুভয়ং যস্তু স ভুঞ্জানো ন লিপ্যতে॥৫
অন্বয়: ত্রিষু ধামসু (তিনটি অবস্থায় [জাগ্রত, স্বপ্ন, সুষুপ্তি ]); যৎ ভোজ্যম্ (যা-কিছু তুমি ভোগ কর [স্থূল, সূক্ষ্ম বা আনন্দময়]); যঃ চ ভোক্তা (যে কেউ ভোক্তা হন না কেন [অর্থাৎ বিশ্ব, তৈজস বা প্রাজ্ঞ]); প্রকীর্তিতঃ (তাদের বলা হয়); যঃ তু (যে কেউ); এতৎ উভয়ম্ (এই দুই-ই [ভোগ্যবস্তু ও ভোক্তা]); বেদ (জানেন); সঃ (সেই ব্যক্তি); ভুঞ্জানঃ (তিনি যদি ভোক্তা হন); ন লিপ্যতে (লিপ্ত হন না [কারণ তিনি জানেন ভোক্তা ও ভোগ্যবস্তু এক ও অভিন্ন])।
সরলার্থ: জাগ্রত, স্বপ্ন ও সুষুপ্তি অবস্থায় মানুষ যথাক্রমে স্থূলজগৎ, সূক্ষ্মজগৎ ও আনন্দ উপভোগ করে। যিনি এই ভোগ্য বিষয় ও ভোক্তাকে জানেন, তিনি যদি নিজে এসব ভোগও করেন তাতেও এর দ্বারা তিনি লিপ্ত হন না।
ব্যাখ্যা: বিশ্ব (জাগ্রত অবস্থায়), তৈজস (নিদ্রিত এবং স্বপ্নদর্শী) অথবা প্রাজ্ঞরূপে (সুষুপ্তি অবস্থায়) আমার মধ্যে সেই একই আত্মা রয়েছেন। আবার স্থূল, প্রবিবিক্ত তথা সূক্ষ্ম বা আনন্দময় যে-কোনও খাবারই আমি খেতে পারি। কি অবস্থায় আমি খাদ্য গ্রহণ করছি অথবা কি ধরনের খাবারই বা আমি খাচ্ছি তাতে কিছুই যায় আসে না। তিন অবস্থাতেই আত্মা আত্মাই থাকেন এবং খাদ্যবস্তু খাদ্যবস্তুই থাকে। কি ধরনের খাদ্য গ্রহণ করা হচ্ছে তা দ্বারা আত্মা বিন্দুমাত্র প্রভাবিত হন না। একে আগুন আর তার প্রজ্বলনের জন্য যে জ্বালানি লাগে তার সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে। জ্বালানির দ্বারা আগুনের কোন রকম ক্ষতি সাধিত হয় না। একইভাবে কোন খাদ্যই আমার কোনও ক্ষতি করতে পারে না। কেন পারে না? কারণ আমি সাক্ষীমাত্র। আমি এক অবস্থা থেকে আর এক অবস্থা প্রাপ্ত হতে পারি কিন্তু ‘আমি’ এক ও অভিন্ন। তুরীয় অবস্থাতেই (শুদ্ধ চৈতন্য) আমার প্রকৃত স্বরূপ বোধ হয়। ‘চেতোমুখ’ তথা সুষুপ্তি ও তুরীয়ের মধ্যে যে ব্যবধান তা অতিক্রম করতে পারলেই আমরা তুরীয় অবস্থা লাভ করি। যখন আমরা শুদ্ধ চৈতন্যমাত্র, কেবল তখনি আমরা সাক্ষীস্বরূপ। এই-ই আমাদের প্রকৃত পরিচয়। প্রকৃতপক্ষে আমাদের কোনও পরিবর্তন হয় না। আমরা সর্বদাই অপরিবর্তিত। বিশ্ব, তৈজস বা অন্য যে কোন অবস্থাই হচ্ছে রজ্জুতে সর্পভ্রমতুল্য। আমরা সঠিক চিনতে পারি বা না পারি দড়ি দড়িই থাকে। ঠিক তেমনি আত্মা আত্মাই থাকেন। খাদ্যের দ্বারা আত্মা প্রভাবিত হন না কারণ আত্মা সকল দোষ থেকে মুক্ত।