স্থূলং তৰ্পয়তে বিশ্বং প্রবিবিক্তং তু তৈজসম্।
আনন্দশ্চ তথা প্রাজ্ঞং ত্রিধা তৃপ্তিং নিবোধত॥৪
অন্বয়: স্থূলম্ (স্থূলবস্তু); বিশ্বং তৰ্পয়তে (বিশ্বকে তুষ্ট করে); প্রবিবিক্তম্ (সূক্ষ্মবস্তু); তৈজসম্ ([তুষ্ট করে] তৈজসকে); আনন্দঃ চ তথা প্রাজ্ঞম্ (একইভাবে আনন্দ তুষ্ট করে প্রাজ্ঞকে); ত্রিধা তৃপ্তিং নিবোধত (লক্ষ্য কর যে উপভোগ করার এই তিন রকমের পথ আছে)।
সরলার্থ: ‘বিশ্ব’ হিসাবে স্থূলবস্তুই আমার উপভোগের বিষয়। কিন্তু যখন আমি ‘তৈজস’, তখন সূক্ষ্মবস্তু পর্যন্ত আমার কাছে তৃপ্তিদায়ক হয়ে থাকে। আর যখন আমি প্রাজ্ঞ তখন আনন্দপ্রদ বস্তু আমাকে তৃপ্তি দেয়। (যদিও এক্ষেত্রে আমি কি উপভোগ করছি সে সম্পর্কে আমি সচেতন নই।) এই তিন রকম ভোগের কথা বলা হয়েছে।
ব্যাখ্যা: পূর্ববর্তী শ্লোকের কথা এই শ্লোকেও পুনরাবৃত্ত। তৃপ্তি’ কথাটির অর্থ সন্তোষ, তিনটি ভিন্ন অবস্থাতে মানুষ তিন রকমের তৃপ্তি বা আনন্দ লাভ করে থাকে। জাগতিক স্তরে মানুষ স্থূলবস্তুকেই সবথেকে বেশি উপভোগ করে। মানসস্তরে সূক্ষ্মবস্তুই উপভোগের পক্ষে উপযুক্ত। এছাড়া আরও একটি স্তর আছে যেখানে সকল ইন্দ্রিয় ও মন নিষ্ক্রিয় অবস্থায় থাকে। কিন্তু এই অবস্থাতেও মানুষ ভোগ করে কিন্তু তারজন্য কোনও ইন্দ্রিয় বা বাহ্যবস্তুর প্রয়োজন হয় না। এই আনন্দ কোন কিছুর উপর নির্ভরশীল নয়।