সর্বস্য প্রণবো হ্যাদির্মধ্যমন্তস্তথৈব চ।
এবং হি প্রণবং জ্ঞাত্বা ব্যশ্নুতে তদনন্তরম্॥২৭
অন্বয়: প্রণবঃ হি সর্বস্য আদিঃ (প্রণবেই এই জগতের শুরু); মধ্যম্ (এ জগতের মধ্য); তথা এব অন্তঃ চ (একইভাবে এই জগতের শেষও বটে); এবং প্রণবং জ্ঞাত্বা (যদি প্রণবকে এইভাবে জানতে পার [অর্থাৎ নিজ আত্মারূপে]); তদনন্তরম্ (তক্ষণি); ব্যশ্নুতে (ব্রহ্মকে সম্পূর্ণভাবে জানতে পারবে)।
সরলার্থ: প্রণবই (ওম্) সবকিছুর শুরু, মধ্য ও শেষ। এইভাবে যদি প্রণবকে জানতে পারি, তবে তক্ষণি আমরা ব্রহ্মকেও সম্পূর্ণভাবে জানতে পারব।
ব্যাখ্যা: প্রণবই আরম্ভ (আদি), প্রণবই মধ্য এবং প্রণবই শেষ (অন্ত)। আবার প্রণবই অতীত, বর্তমান এবং ভবিষ্যৎ। সব অবস্থাতে এবং সকল পরিস্থিতিতে প্রণব সেই একই ব্রহ্ম। প্রণব দেশ এবং কালের ঊর্ধ্বে। প্রণবকে যদি এইভাবে জানতে পারা যায় তবে সাধক তাঁর সঙ্গে এক হয়ে যান।
‘ব্যশ্নুতে’ শব্দটি অশ্ ধাতু থেকে এসেছে, যার অর্থ খাওয়া। এটি একটি চমৎকার তুলনা। জ্ঞান লাভ করা যেন খাবার গ্রহণের মতো। কেউ হয়তো তৃপ্তি সহকারে প্রচুর পরিমাণে খাবার খেয়েছেন, অর্থাৎ আকণ্ঠ খেয়েছেন। এ একরকমের অভিজ্ঞতা, বুদ্ধির মারপ্যাঁচ নয়। খাবার জিনিস সামনে রেখে কেবলমাত্র দেখলেই কি খিদে মিটে যায়? না, খিদে মেটে না। খাবার খেলেই খিদে মেটে। ব্রহ্মের বেলাতেও ঠিক একই কথা খাটে। একই ব্রহ্ম মানুষের ভেতরে এবং বাইরে আছেন—এই ভাবটিকে বুদ্ধি দিয়ে বুঝে আংশিক আনন্দ পাওয়া যেতে পারে। কিন্তু যতক্ষণ আত্মজ্ঞান লাভ না হচ্ছে ততক্ষণ এর দ্বারা কোনও উদ্দেশ্যই সাধিত হয় না। সেইজন্যই গৌড়পাদ ‘ব্যশ্নুতে’ শব্দটি ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ এই ভাবটিকে আমাদের খাওয়া উচিত। এ এক বিশেষ ধরনের অভিজ্ঞতা, অপরোক্ষ অনুভূতি। এই অনুভূতি হলে সাধক মুক্ত হয়ে যান, ‘তদনন্তরম্’—তক্ষণি মুক্ত হয়ে যান। এই হল প্রকৃত জ্ঞান।