মকারভাবে প্রাজ্ঞস্য মানসামান্যমুৎকটম্।
মাত্ৰাসংপ্রতিপত্তৌ তু লয়সামান্যমেব চ॥২১
অন্বয়: প্রাজ্ঞস্য (আত্মার তৃতীয় অবস্থা); মকারভাবে (ম-কারে); মান-সামান্যম্ (একই অবস্থার অধিকারী); উৎকটম্ (আপাত); মাত্রা সংপ্রতিপত্তৌ (বৰ্ণরূপে); লয়-সামান্যম্ (উভয়েরই শেষ); এব (হওয়া); চ (ও)।
সরলার্থ: আত্মার তৃতীয় অবস্থা হল প্রাজ্ঞ। অবস্থার দিক থেকে প্রাজ্ঞ (অউম-এর) ম-এর তুল্য। উভয়ের মধ্যে এটিই সাধারণ বৈশিষ্ট্য। যেমন ‘অউম’-এর শেষ বর্ণ ম-কার, ঠিক তেমনি প্রাজ্ঞ হল আত্মার চূড়ান্ত অবস্থা। এইখানে উভয়ই সদৃশ।
ব্যাখ্যা: ‘ম’কারকে সুষুপ্তি তথা স্বপ্নহীন গভীর নিদ্রার সাথে তুলনা করা হয়েছে। সুষুপ্তি অবস্থায় জীবকে বলা হয় প্রাজ্ঞ। মানুষ তৈজস অবস্থায় অর্থাৎ যখন স্বপ্ন দেখে তখন সে মনের দ্বারাই নানা অভিজ্ঞতা লাভ করে থাকে। কিন্তু প্রাজ্ঞ অবস্থায় অভিজ্ঞতা বলতে আর কিছুই থাকে না। তখন দেহ-মন দুই-ই নিষ্ক্রিয়। মানুষ তখন কিছুই জানতে পারে না। সাময়িকভাবে এ যেন মৃত্যুর সমান। সেজন্যই এখানে ‘লয়’ বা ‘মৃত্যু’ শব্দটি ব্যবহার করা হয়েছে। এই ‘লয়’—প্রাজ্ঞ এবং ম উভয়েরই বৈশিষ্ট্য। যখন মানুষ প্রাজ্ঞ অবস্থায় অর্থাৎ সুষুপ্তিতে থাকে তখন তার দেহ-মন সব নিষ্ক্রিয়। সেইরকম ‘অউম’ যখন ম-কারে লীন হয় তখন সেখানে আর কোনও শব্দ থাকে না।