প্রপঞ্চো যদি বিদ্যেত নিবর্তেত ন সংশয়ঃ।
মায়ামাত্ৰমিদং দ্বৈতমদ্বৈতং পরমার্থতঃ॥১৭
অন্বয়: প্রপঞ্চঃ যদি বিদ্যেত (যদি এই দৃশ্যমান জগতের সত্যিই অস্তিত্ব থাকত); নিবর্তেত ন সংশয়ঃ (নিঃসন্দেহে তার পরিসমাপ্তিও ঘটত); ইদং দ্বৈতম্ (থাকা ও না থাকা এই দ্বিতত্ত্বই এর প্রমাণ); মায়ামাত্রম্ ([এ জগৎ) ভ্রান্তিমাত্র); অদ্বৈতং পরমার্থতঃ (অদ্বয় [ব্রহ্ম] একমাত্র সত্য)।
সরলার্থ: যদি এই দৃশ্যমান জগতের সত্যিই অস্তিত্ব থাকত তবে কোন এক সময়ে সেটি লুপ্তও হত। কিন্তু এ জগতের অস্তিত্ব নেই। এর অস্তিত্ব একটি ভ্রান্তিমাত্র। আসল কথাটি হল ব্রহ্মই একমাত্র সত্য।
ব্যাখ্যা: এখানে একটি আপত্তি ওঠে : জগৎ থাকতে ঐক্যের বোধ হয় কি করে? এর উত্তরে গৌড়পাদ বলছেন : এ জগৎ তো শুধু এক দৃষ্টিবিভ্রম। সুতরাং যা নেই তার আবার লোপ হয় কি করে? এর অস্তিত্ব কখনই ছিল না, থাকবেও না। ভুল সবসময়ই ভুল। আমার স্বরূপবোধ হলে আমি অনুভব করি, এ জগৎ বলে কখনো কিছু ছিল না। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল জগতের অস্তিত্ব আছে। তাই এর (যা কখনো ছিল না) লোপ পাবার প্রশ্নই ওঠে না। এ কতকটা স্বপ্ন থেকে জাগ্রত হওয়ার মতো। এতক্ষণ আমি যা দেখছিলাম তা যে স্বপ্নমাত্র একথা ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে না। কারণ জাগ্রত হওয়ামাত্রই আমি অনুভব করি এ সত্য ঘটনা নয়। স্বপ্নে যেসব ঘটেছে বলে মনে হয় সেসব কখনো ঘটেইনি। ঠিক একইভাবে মায়ানিদ্রা দূর হয়ে যখন আমরা ব্রহ্মজ্ঞান লাভ করি, তখন আমরা সর্বভূতে ব্রহ্মকেই দেখি। ব্রহ্ম ছাড়া আর কিছুই দেখি না।
যাদুকর নানারকম খেলা দেখায়। আর সেগুলিকে আমরা সত্য বলে মনে করি। অবশ্য শীঘ্রই আমরা বুঝতে পারি খেলাগুলি সব ফাঁকি। যাদুকরই সত্য, তার দেখানো ভেলকিবাজি সত্য নয়। একই কথা এই জগৎ সম্পর্কেও প্রযোজ্য। এ জগৎ কখনই ছিল না। তবে যে আমরা এ জগৎকে দেখছি, এ দেখা আসলে দৃষ্টিবিভ্রম-মাত্র। সত্য এক এবং তা স্বয়ং ব্রহ্ম। ব্রহ্ম ছাড়া আমরা যদি আর কিছু দেখে থাকি, তা ভুল।