স্বপ্ননিদ্রাযুতাবাদ্যৌ প্রাজ্ঞস্ত্বস্বপ্ননিদ্রয়া।
ন নিদ্রাং নৈব চ স্বপ্নং তুর্যে পশ্যন্তি নিশ্চিতাঃ॥১৪
অন্বয়: আদৌ (প্রথম দুটি [অর্থাৎ বিশ্ব—জাগ্রত অবস্থা ও তৈজস—স্বপ্নাবস্থা]); স্বপ্ন-নিদ্রা-যুতৌ (দৃষ্টিবিভ্রম এবং স্বপ্নযুক্ত নিদ্রার দ্বারা বিশেষিত); প্রাজ্ঞঃ তু অস্বপ্ন নিদ্রয়া (স্বপ্নহীন নিদ্রার দ্বারা বিশেষিত); নিশ্চিতাঃ (যাঁরা ব্রহ্মকে নিশ্চিতভাবে জানেন); তুর্যে (তুরীয় অবস্থায়); নিদ্রাং ন স্বপ্নং চ ন পশ্যন্তি (এই তিন অবস্থা—জাগ্রত, স্বপ্ন ও সুষুপ্তির মধ্যে কোনটিকেই দেখেন না)।
সরলার্থ: প্রথম দুই অবস্থা—বিশ্ব এবং তৈজস, দৃষ্টিবিভ্রম ও স্বপ্নের দ্বারা বিশেষিত। প্রাজ্ঞ হল স্বপ্নহীন গাঢ় নিদ্রার অবস্থা। যাঁরা ব্রহ্মকে যথার্থভাবে জানেন তাঁরা নিদ্রা ও স্বপ্নবস্থাকে কখনো তুরীয়ের সঙ্গে যুক্ত করেন না।
ব্যাখ্যা: এখানে স্বপ্ন কথাটির অর্থ এক বস্তুকে অন্য আর এক বস্তুর রূপে দেখা। যেমন—রজ্জুসৰ্প অর্থাৎ রজ্জুর স্থানে সর্পকে দেখা। বিশ্ব তথা জাগ্রত অবস্থাতেও আমাদের এই ধরনের দৃষ্টিবিভ্রম হয়ে থাকে। দুটি অবস্থায়ই কার্য-কারণের অধীন। প্রাজ্ঞ কিন্তু দৃষ্টিবিভ্রম থেকে মুক্ত, কিন্তু এটিরও পিছনে কারণ আছে। আর সে কারণ হল অবিদ্যা বা অজ্ঞানতা।
যেখানে সূর্যালোক আছে সেখানে অন্ধকার থাকতে পারে না। আলো এবং অন্ধকার পরস্পরবিরোধী। একইভাবে তুরীয়ে অজ্ঞানতার স্থান নেই আবার তুরীয় কার্য-কারণের অধীন নয়। একথাই ব্রহ্মজ্ঞ পুরুষরা দৃঢ়তার সাথে বলে থাকেন।