দ্বৈতস্যাগ্রহণং তুল্যমুভয়োঃ প্রাজ্ঞতুর্যোয়োঃ।
বীজনিদ্রাযুতঃ প্রাজ্ঞঃ সা চ তুর্যে ন বিদ্যতে॥১৩
অন্বয়: প্রাজ্ঞঃ তুর্যয়োঃ উভয়োঃ (তুরীয় এবং প্রাজ্ঞ উভয়ই); দ্বৈতস্য অগ্রহণং তুল্যম্ (তাঁরা তুল্য এই অর্থে যে উভয়ের কেউই দ্বিতত্ত্ব সম্পর্কে অবহিত নন [অর্থাৎ উভয়ের কারোর মধ্যেই দৃশ্যমান জগতের কোন বোধ নেই, কিন্তু একটি পার্থক্য আছে]); প্রাজ্ঞঃ বীজনিদ্রাযুতঃ (প্রাজ্ঞ নিদ্রাভিভূত কারণ সে অজ্ঞান); সা চ [নিদ্রা] তুর্যে ন বিদ্যতে (তুরীয় অবস্থা অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত)।
সরলার্থ: প্রাজ্ঞ এবং তুরীয়ের একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য আছে, উভয়ই এই দৃশ্যজগৎ সম্পর্কে অবহিত নয়। আবার উভয়ের মধ্যে একটি পার্থক্যও আছে। প্রাজ্ঞ নিদ্রাভিভূত কারণ সে অজ্ঞান, কিন্তু তুরীয় অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত।
ব্যাখ্যা: প্রাজ্ঞ এবং তুরীয় অবস্থার মধ্যে বহু সাদৃশ্য দেখা যায়। উভয় অবস্থাতেই আমার কাছে এই দৃশ্যমান জগতের কোন অস্তিত্বই থাকে না। এই অবস্থায় দ্বিতত্ত্বের কোন প্রভাবও নেই, কিন্তু এই দুই অবস্থার মধ্যে এক মূল পার্থক্য আছে। আমরা দুই দেখি কেন? কারণ আমরা আত্মার প্রকৃত স্বরূপ সম্পর্কে অজ্ঞ। সেই অভিন্ন আত্মা সর্বত্র ও সর্ববস্তুতে বিরাজমান। আমিই সেই আত্মা। তুমি আর আমি এক ও অভিন্ন। যদি আমি তোমাকে আঘাত করি তবে তো আমি নিজেকেই আঘাত করছি। কিন্তু আমি তোমাকে আঘাত করি কেন? কারণ আমি তোমাকে আমার থেকে পৃথক মনে করি এবং এই দ্বৈতবোধের জন্যই আমি তোমাকে আঘাত করি। যতক্ষণ এই দ্বিতত্ত্বের বোধ থাকবে ততক্ষণ আমি আমার কাছে এবং অপর সকলের কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে থাকব, এই দ্বিতত্ত্ববোধ ত্যাগ করাই আমাদের জীবনের লক্ষ্য।
একথা সত্য যে প্রাজ্ঞ বা তুরীয় অবস্থায় আমরা দুই দেখি না। প্রাজ্ঞ অবস্থাকে স্বপ্নহীন গভীর নিদ্রার (সুষুপ্তির) অবস্থা বলে। তখন মানুষ গাঢ় নিদ্রায় আচ্ছন্ন এবং কোন কিছুর সম্পর্কেই অবহিত নয়। আবার নিদ্রাভঙ্গের ঠিক অব্যবহিত পরেই কোথায় আছি বা এটা কোন্ সময় তা বোঝা যায় না। অচিরেই অবশ্য এই ঘোর কেটে যায় এবং নিদ্রার পূর্বে যেখানে ছিলাম আবার সেখানেই ফিরে যাই। এর কারণ কি? কারণ আত্মা সম্পর্কে আমি অজ্ঞ। আমি এখনও অজ্ঞানতা থেকে মুক্ত নই এবং তার ফলে দ্বৈতবোধের সাময়িক বিলুপ্তি সত্ত্বেও আমার জীবনে সেই অজ্ঞানতা। পুরোমাত্রায় বর্তমান।
কিন্তু তুরীয় অবস্থায় আমার মধ্যে অজ্ঞানতার লেশমাত্র থাকে না। তখন আমি জানি আমি কে? আমি জানি যে আমি সেই অভিন্ন আত্মা যা সকলের মধ্যে বিরাজিত।