নাত্মানং ন পরাংশ্চৈব ন সত্যং নাপি চানৃতম্।
প্রাজ্ঞঃ কিঞ্চন সংবেত্তি তুর্যং তৎ সর্বদৃক্ সদা॥১২
অন্বয়: প্রাজ্ঞঃ (প্রাজ্ঞ); আত্মানং ন ([যেমন পূর্বে বলা হয়েছে] নিজেকে জানে না); পরং চ ন (অন্য কিছুও জানে না); সত্যং ন অনৃতম্ (সৎ অসৎ জানে না); কিঞ্চন ন এব সংবেত্তি (কোন কিছুই উত্তমরূপে জানে না); তুরীয়ম্ (চতুর্থটি); সদা (সবসময়); তৎ সর্বদৃক্ (সর্ব বস্তু দর্শনে সক্ষম)।
সরলার্থ: প্রাজ্ঞ অবস্থায় ব্যক্তি নিজেকে জানে না, অন্য কিছুও জানে না। এ অবস্থায় সৎ-অসৎও জানা যায় না। অর্থাৎ এ অবস্থায় কোন কিছুই জানা যায় না। তুরীয় অবস্থায় ব্যক্তি কিন্তু সর্বদাই সবকিছু জানেন।
ব্যাখ্যা: প্রাজ্ঞ এবং তুরীয় অবস্থার মধ্যে পার্থক্য কি? প্রাজ্ঞ অবস্থায় তুমি সম্পূর্ণ অচেতন। তুমি তখন সুষুপ্তিতে থাক। তখন তুমি তোমার আত্মা বা অন্য কোন কিছুই জান না। কোন্টি করা ঠিক কোন্টি ভুল এ বোধও তখন থাকে না। অজ্ঞানতার বীজ সবসময়েই তোমার মধ্যে রয়েছে। এই অজ্ঞানতা দেখা যায় না কিন্তু এ থাকে ঠিকই। সেইজন্য ঘুম ভাঙার সঙ্গে সঙ্গে তুমি আবার সেই স্থানে ফিরে যাও যেখানে নিদ্রার পূর্বে ছিলে। তুমি আবার সেই একই ব্যক্তি যে কর্মের ঘূর্ণাবর্তে আবদ্ধ। তুমি তখন আষ্টেপৃষ্ঠে বদ্ধ।
কিন্তু তুরীয় অবস্থায় তুমি সম্পূর্ণ মুক্ত। তুমি তখন মেঘের আড়াল থেকে বেরিয়ে আসা সূর্যের মতো। এই অবস্থায় তুমি কোন কিছুতেই লিপ্ত নও। তুমিই তোমার আত্মা—যা অদ্বিতীয় ও স্বতন্ত্র। তুমি অপরিবর্তনীয়। কিছুই তখন তোমাকে প্রভাবিত করতে পারে না। এই অবস্থায় তুমি সর্বদৃষ্টিসম্পন্ন, সর্বজ্ঞ, সর্বব্যাপী এবং সতত বিদ্যমান।