তস্মাদপ্যদ্যেহাদদানমশ্ৰদ্ধধানমযজমানমাহুরাসুরো বতেত্যসুরাণাং হোষোপনিষৎ প্রেতস্য শরীরং ভিক্ষয়া বসনেনালঙ্কারেণেতি সংস্কৃর্বন্ত্যেতেন হামুং লোকং জেষ্যন্তো মন্যন্তে ॥ ৫
অন্বয় : তস্মাৎ (সেইজন্য) অপি অদ্য (অদ্যাপি) ইহ (এই পৃথিবীতে) অদদানম্ (দানবিহীন লোককে) অশ্রদধানম্ (শ্রদ্ধাবিহীন লোককে) অযজমানম্ (যজ্ঞবিহীন লোককে) আহ্বঃ (বলিয়া থাকে) আসুরঃ বত ইতি (অসুরস্বভাবসম্পন্ন) অসুরাণাম্ (অসুরদিগের) হি এষা (এই) উপনিষৎ—প্রেতস্য (মৃত ব্যক্তির) শরীরম্ ভিক্ষয়া (ভিক্ষা, গন্ধমাল্য অনুপানাদি দ্বারা—শঙ্কর) বসনেন (বসন দ্বারা) অলঙ্কারেণ (অলঙ্কার দ্বারা) ইতি সংস্কুর্বন্তি (ভূষিত করে); এতেন (এই উপায়ে) হি অমুম্ লোকম্ (ঐ লোককে জেষ্যন্তঃ (জয় করিবে) মন্যন্তে (মনে করে)।
সরলার্থ : এইজন্য আজও দানহীন, শ্রদ্ধাহীন ও যজ্ঞহীন ব্যক্তিকে অসুর বলা হয়। ইহাই অসুরদের উপনিষৎ। তাহারা গন্ধমালা, বস্ত্র ও অলঙ্কার দ্বারা মৃত ব্যক্তির দেহকে সাজায়; কারণ তাহারা মনে করে যে ঐ ভাবেই পরলোক জয় করিবে।
মন্তব্য : ‘ভিক্ষয়া’ (ক) Monier Williams বলেন—’ভোগ করিবার ইচ্ছা’ অর্থে ‘ভজ্’ ধাতু হইতে ‘ভিক্ষা’ ধাতু হইয়াছে। এই মত গ্রহণ করিলে ‘ভিক্ষা’র একটি অর্থ ‘ভোগ্যবস্তু’ হইতে পারে। তাহা হইলে ভিক্ষয়া=ভোগ্যবস্তুর দ্বারা। (খ) মৃতদেহকে শ্মশানে লইয়া যাইবার সময় অনেকে হয়ত ইহার জন্য গন্ধমালাদি প্ৰদান করিত; ইহাকেও ‘ভিক্ষা’ বলা যাইতে পারে।