তৌ হ প্রজাপতিরুবাচ য এষোহক্ষিণি পুরুষো দৃশ্যত এষ আত্মেতি হোবাচৈতদমৃতমভয়মেতদ্ ব্রহ্মেতি। অথ যোহয়ং ভগবোহঙ্গু পরিখ্যায়তে যশ্চায়মাদর্শে কতম এষ ইত্যেষ উ এবৈষু সর্বেষন্তেষু পরিখ্যায়ত ইতি হোবাচ ॥ ৪
অন্বয় : তৌ (সেই দুই জনকে) হ প্রজাপতিঃ উবাচ—যঃ এষঃ (এই যে) অক্ষিণি (বৈদিক প্রয়োগ; অক্ষ্মি বা অক্ষণি, চক্ষুতে) পুরুষঃ দৃশ্যতে (দৃষ্ট হয়), এষঃ (ইনি) আত্মা ইতি হ উবাচ (বলিলেন); এতৎ (ইনি) অমৃতম্, অভয়ম্ এতৎ ব্রহ্ম ইতি। অথ যঃ অয়ম্ (এই যে ‘পুরুষ’) ভগবঃ! (ভগবন্) অপ্ (জলে) পরিখ্যায়তে অনুভূত হয়, (দৃষ্ট হয়), যঃ চ অয়ম্ আদর্শে (দর্পণে), কতমঃ (কে) এষঃ (এই)? ইতি। এষঃ (এই আত্মা) উ এব এষু সর্বেষু অন্তেষু (এই সমুদয়ের অভ্যন্তরে) পরিখ্যায়তে ইতি হ উবাচ।
সরলার্থ : প্রজাপতি ঐ দুই জনকে বলিলেন—’চক্ষুতে এই যে পুরুষ দেখা যায় ইনিই আত্মা।’ তিনি আরও বলিলেন—’ইনিই অমৃত, অভয় এবং ব্রহ্ম।’ তাঁহারা জিজ্ঞাসা করিলেন—”ভগবান, জলে যে পুরুষ দৃষ্ট হয়, আর যে পুরুষ দর্পণে দৃষ্ট হয়, ইহারা কে?’ প্রজাপতি বলিলেন—’এই সমস্ত কিছুতেই আত্মা দৃষ্ট হন।
মন্তব্য : প্রজাপতি যাহা বলিয়াছিলেন তাহার অর্থ এই— চক্ষুর মধ্যে যিনি দ্রষ্টারূপে থাকিয়া দর্শন করেন, তিনিই আত্মা; যোগিগণ চক্ষু মুদ্রিত করিয়াও এই দ্রষ্টারূপী আত্মাকে দর্শন করেন। কিন্তু ইন্দ্র ও বিরোচন বুঝিয়াছিলেন যে, চক্ষুর মধ্যে যে প্রতিবিম্বিত মূর্তি দৃষ্ট হয়, তাহাই আত্মা (শঙ্কর)।