য আত্মাপহতপাপ্পা বিজরো বিমুত্যুর্বিশোকো বিজিঘৎসোহপিপাসঃ সত্যকামঃ সত্যসংকল্পঃ সোহন্বেষ্টব্যঃ স বিজিজ্ঞাসিতব্যঃ স সর্বাংশ্চ লোকানাপ্নোতি সর্বাংশ্চ কামান্ যস্তমাত্মানমনুবিদ্য বিজানাতীতি হ প্রজাপতিরুবাচ ॥ ১
অন্বয় : যঃ (যে) আত্মা অপহতপাপ্পা, বিজরঃ বিমৃত্যুঃ বিশোকঃ বিজিঘৎসঃ অপিপাসঃ সত্যকামঃ সত্যসঙ্কল্পঃ সঃ অন্বেষ্টব্যঃ (তাহাকে অন্বেষণ করিতে হইবে); সঃ বিজিজ্ঞাসিতব্যঃ (বিশেষরূপে জানিবার ইচ্ছা করিতে হইবে); সঃ সর্বান্ চ লোকান্ (সমুদয় লোককে) আপ্নোতি (প্রাপ্ত হয়), সর্বান্ চ কামান্ (সমুদয় কামনাকে) যঃ (যে তম্ আত্মানম্ (আত্মাকে) অনুবিদ্য (বিচার করিয়া) বিজানাতি (বিশেষরূপে জানে,), ইতি হ প্রজাপতিঃ উবাচ (বলিয়াছিলেন)।
সরলার্থ : প্রজাপতি এক সময়ে বলিয়াছিলেন— ‘যে আত্মা পাপরহিত, জরা-মৃত্যু-শোকরহিত, ভোজনেচ্ছা এবং পিপাসারহিত, যিনি সত্যকাম ও সত্য-সঙ্কল্প, তাঁহাকেই অন্বেষণ করিতে হইবে, তাঁহাকেই বিশেষরূপে জানিতে হইবে। যিনি তাঁহাকে অনুসন্ধান করিয়া জানেন তিনি সমস্ত লোক ও সকল কাম্যবস্তু লাভ করেন।’
মন্তব্য : শঙ্করের ভাষ্যে ‘অনুবিদ্য’ স্থলে ‘অন্বিষ্য’ আছে। ইহাতে মনে হয় তিনি যে হস্তলিপি পাইয়াছিলেন, তাহাতে মূলে ‘অন্বিষ্য’ই ছিল। আর অন্বিষ্য (অনুসন্ধান করিয়া) হইলেই অর্থ সুসঙ্গত হয়। প্রথম বলা হইল ‘সেই আত্মাকে অন্বেষণ করিতে হইবে (অন্বেষ্টব্যঃ), সেই আত্মাকে বিশেষ করিয়া জানিতে হইবে (বিজিজ্ঞাসিতব্যঃ)’। তাহার পর যদি বলা হয় ‘তিনি অন্বেষণ করিয়া (অন্বিষ্য) তাঁহাকে জানেন ইত্যাদি’— তাহা হইলে অর্থ অতি সুন্দর হয়।