অথ যদনাশকায়নমিত্যাচক্ষতে ব্রহ্মচর্যমেব তদেষ হ্যাত্মা ন নশ্যতি যং ব্রহ্মচর্যেণানুবিন্দতে। অথ যদরণ্যায়নমিত্যাচক্ষতে ব্রহ্মচর্যমেব তদ্রশ্চ হ বৈ ণ্যশ্চার্ণবৌ ব্ৰহ্মলোকে তৃতীয় স্যামিতো দিবি। তদৈরং মদীয়ং সরস্তদশ্বথঃ সোমসবনস্তদপরাজিতা পূব্রহ্মণঃ প্রভুবিমিতং হিরন্ময়ম্ ॥ ৩
অন্বয় : অথ যৎ অনাশকায়নম্ (অনাশক+অয়নম্—উপবাসব্রত; অনাশক—উপবাস; অয়ন—গতি, পথ) ইতি আচক্ষতে, ব্রহ্মচর্যম্ এব তৎ। এষঃ (এই) হি আত্মা ন (না) নশ্যতি (বিনষ্ট হয়) যম্ (যে আত্মাকে) ব্রহ্মচর্যেণ (ব্রহ্মচর্যের দ্বারা) অনুবিন্দতে। অথ যৎ অরণ্যায়নম্) অরণ্য+অয়নম্=অরণ্যে বাস (ইতি আচক্ষতে, ব্রহ্মচর্যম্ এব তৎ। তৎ (সেখানে) অরঃ চ (অর-নামক) বৈ ণ্যঃ চ (ও ণ্য নামক) অর্ণবৌ (অর্ণবদ্বয়) ব্রহ্মলোকে তৃতীয় স্যাম্ [দিবি] (তৃতীয় দ্যুলোকে) ইতঃ (এই স্থল হইতে) দিবি তৎ (সেই স্থলে) ঐরম্+মদীয়ম্ (ঐরম্মদীয় নামক; ইরা=অন্ন; ঐরঃ=ইরাময়,মণ্ড; ঐরম্=মণ্ডপূর্ণ; মদীয়ম্=মদকর,হর্যোৎপাদক) সরঃ (সরোবর)। তৎ অশ্বত্থঃ সোমসবনঃ (সোমস্রাবী; কিংবা সোমসবন নামক)। তৎ অপরাজিতা (অপরাজিতা নামক; যাহা পরাজিত হয় না) পূঃ (পুরী) ব্রহ্মণঃ (ব্রহ্মের), প্রভুবিমিতম্ (প্রভু অর্থাৎ ব্রহ্ম কর্তৃক বিমিত=যাহা বিশেষভাবে নির্মিত, এস্থলে মণ্ডপ। হিরন্ময় (সুবৰ্ণময়)।
সরলার্থ : যাহাকে ‘অনাশকায়ন’ (অনশনব্রত) বলা হয় তাহাও ব্ৰহ্মচর্য, কারণ ব্রহ্মচর্য দ্বারা যে আত্মাকে লাভ করা হয়, তাহার নাশ নাই (ন নশ্যতি)। আবার যাহাকে ‘অরণ্যায়ন’ বলা হয়, তাহাও ব্রহ্মচর্য, কারণ এই পৃথিবী হইতে তৃতীয় স্বর্গে, — ব্রহ্মলোকে—’অর’ ও ‘ণ্য’ নামক দুইটি সমুদ্র আছে। সেখানে ‘ঐরম্মদীয়’ নামে সরোবর, সোমরসস্রাবী অশ্বত্থবৃক্ষ, ‘অপরাজিতা’ নামে ব্রহ্মের পুরী এবং ব্রহ্মা কর্তৃক বিশেষভাবে নির্মিত একটি স্বর্ণমণ্ডপ আছে।
মন্তব্য : (ক) ‘অনাশকায়ন’ শব্দের দুই অর্থ : (১) অনাশক+অয়ন=উপবাস-ব্ৰত; আশক=ভক্ষণ; অনাশক=উপবাস। (২) যাহাতে নাশ হয় না তাহাই অনাশক। এই প্রকার পথের নাম ‘অনাশকায়ন’। যজ্ঞেও অনাশকায়ন এবং ব্রহ্মচর্যেও অনাশকায়ন। সুতরাং যজ্ঞের অনাশকায়নই ব্রহ্মচর্য। (খ) ‘অরণ্য’ শব্দের দুই অর্থ : (১) বন; (২) অর এবং ণ্য নামক অর্ণবদ্বয়। কর্মপথে অরণ্যায়ন (অর্থাৎ বনগমন বিধি) আবার জ্ঞানপথেও অরণ্যায়ন (অর্থাৎ অর ও ণ্য নামক সমুদ্রদ্বয় লাভ)। সুতরাং অরণ্যায়নই ব্ৰহ্মচর্য। (গ) কৌষীতকি উপনিষদে যে ব্রহ্মলোকের বর্ণনা আছে তাহাতে বলা হইয়াছে যে, ‘আর’ নামক হ্রদ, বিজরা নদী, ইল্য বৃক্ষ, সালজ্য নগর, ‘অপরাজিত’ প্রাসাদ, ‘বিভুপ্রতিম’ মণ্ডপ, ‘বিচক্ষণা’ সিংহাসন, ‘অমিতৌজা’ নামক পর্যঙ্ক ইত্যাদি সেই ব্রহ্মলোকে বর্তমান রহিয়াছে।