অথ যৎ সন্ত্রায়ণমিত্যাচক্ষতে ব্রহ্মচর্যমেব তদ্ ব্রহ্মচর্যেণ হ্যেব সত আত্মনস্ত্রাণং বিন্দতেহথ যন্মৌনমিত্যাচক্ষতে ব্রহ্মচর্যমেব তদ্ ব্রহ্মচর্যেণ হ্যেবাত্মানমনুবিদ্য মনুতে ॥ ২
অন্বয় : অথ যৎ ‘সন্ত্রায়ণম্’ (সন্ত্র+অয়নম্; সন্ত্র-যজ্ঞ; অয়ন-গতি। দীর্ঘকালব্যাপী যজ্ঞবিশেষ) ইতি আচক্ষতে, ব্রহ্মচর্যম্ এব তৎ। ব্রহ্মচর্যেণ হি এব সতঃ (সৎস্বরূপের নিকটে) আত্মনঃ (জীবাত্মার) ত্রাণম্ বিন্দতে। অথ যৎ মৌনম্ (যজ্ঞারম্ভে মৌনভাব ইতি আচক্ষতে, ব্রহ্মচর্যম্ এব তৎ। ব্রহ্মচর্যেণ হি এব আত্মানম্ অনুবিদ্য (লাভ করিয়া, অবগত হইয়া) মনুতে (মনন করে)।
সরলার্থ : যাহাকে ‘সন্ত্রায়ণ’ বলা হয়,তাহাও ব্রহ্মচর্য; কারণ ব্রহ্মচর্য দ্বারাই সৎস্বরূপের নিকটে (সতঃ) আত্মার ত্রাণ (আত্মনঃ ত্রাণম্) লাভ হয়। আবার যাহাকে ‘মৌন’ বলা হয় তাহাও ব্রহ্মচর্য; কারণ ব্রহ্মচর্য দ্বারাই লোকে আত্মাকে জানিয়া ‘মনন’ করে।
মন্তব্য : (ক) ‘সন্ত্রায়ণ’ একটি বিশেষ যজ্ঞ। ‘সন্ত্রায়ণ’ যজ্ঞদ্বারা ব্রহ্মলোক লাভ করা যায়; আবার ব্রহ্মচর্য দ্বারাও ‘সতঃ আত্মনঃ ত্রাণম্’ অর্থাৎ সৎস্বরূপের নিকট হইতে আত্মার ত্রাণ লাভ করা যায়। ‘সন্ত্রায়ণ’ এবং ‘সতঃ আত্মনঃ ত্রাণম্’ এই দুয়ের মধ্যে উচ্চারণে সাদৃশ্য রহিয়াছে। সুতরাং সন্ত্রায়ণই ব্রহ্মচর্য। (খ) যজ্ঞের আরম্ভে ‘মৌন’ অবলম্বন আবশ্যক। আবার ব্রহ্মচর্য দ্বারা আত্মাকে মনন করা যায় (মনুতে)। ‘মৌন’ এবং ‘মনুতে’ উচ্চারণে সাদৃশ্য রহিয়াছে। সুতরাং মৌনই ব্রহ্মচর্য ।