অথ যদ্ যজ্ঞ ইত্যাচক্ষতে ব্রহ্মচর্যমেব তদ্ ব্রহ্মচর্যেণ হ্যেব যো জ্ঞাতা তং বিন্দতেহথ যদিষ্টমিত্যাচক্ষতে ব্রহ্মচর্যমেব তদ্ ব্রহ্মচর্যেন হোবেত্মানুমনুবিন্দতে ॥ ১
অন্বয় : অথ যৎ (যাহাকে) যজ্ঞঃ ইতি আচক্ষতে (‘লোকে’ বলে) ব্রহ্মর্যম্ এব তৎ (তাহা)। ব্রহ্মচর্যেণ হি এব (ব্রহ্মচর্য দ্বারাই) যঃ জ্ঞাতা (যিনি জ্ঞাতা) তম্ (তাহাকে, ব্রহ্মলোককে) বিন্দতে (লাভ করে)। অথ যৎ ইষ্টম্ (ইষ্ট—যজ্ঞ, পূজা করা) ইতি আচক্ষতে, ব্রহ্মচর্যম্ এব তৎ। ব্রহ্মচর্যেণ হি এব ইষ্টা (অনুসন্ধান করিয়া) আত্মানম্ (আত্মাকে) অনুবিন্দতে (লাভ করে)।
সরলার্থ : যাহাকে ‘যজ্ঞ’ বলা হয় তাহাও ব্রহ্মচর্য; কারণ যিনি জ্ঞাতা (যঃ জ্ঞাতা), তিনি ব্রহ্মচর্য দ্বারাই ব্রহ্মলোক লাভ করেন। যাহাকে ‘ইষ্ট’ বলা হয়, তাহাও ব্রহ্মচর্য; কারণ ব্রহ্মচর্য সহকারে অনুসন্ধান করিয়াই (ইষ্টা) আত্মাকে লাভ করা হয়।
মন্তব্য : এই যুগে প্রধানত দুই শ্রেণীর সাধক ছিলেন, এক শ্রেণীর সাধক কর্মবাদী ছিলেন, আর এক শ্রেণীর সাধক জ্ঞানমার্গ অবলম্বন করিয়া চলিতেন। কর্মবাদিগণ যাগযজ্ঞ লইয়া থাকিতেন, আর জ্ঞানবাদিগণ ব্রহ্মচর্য অর্থাৎ ইন্দ্রিয়-সংযমাদির শ্রেষ্ঠত্ব ঘোষণা করিতেন। আমাদের ঋষি কর্মবাদী ছিলেন, কিন্তু তিনি জ্ঞানবাদীদিগের মতও স্বীকার করেন; তিনি দেখাইতে চান যে যজ্ঞাদিকেও ব্রহ্মচর্য বলা যাইতে পারে। ভাষার সাদৃশ্য দেখাইয়া তিনি নিজ মত সমর্থন করিয়াছেন। (ক) কর্মবাদী বলেন—’যজ্ঞ’ দ্বারা ব্রহ্মলোক লাভ হয়, জ্ঞানবাদী বলেন ‘যঃ জ্ঞাতা’ (যিনি জ্ঞাতা) তিনি ব্রহ্মচর্যের দ্বারা ব্রহ্মলোক লাভ করেন। ‘যজ্ঞ’ এবং ‘জ্ঞাতা’ এতদুভয়ের মধ্যে সাদৃশ্য আছে। ‘যঃ’ শব্দের ‘য’ এবং ‘জ্ঞাতা’ শব্দের ‘জ্ঞ’ লইলেই ‘যজ্ঞ’ হয়। ইহা দেখিয়া শুনিয়া ঋষি বলিতেছেন, যজ্ঞই ব্রহ্মচর্য। (খ) ‘ইষ্টা’ শব্দের দুই অর্থ — (১) যজ্ + ক্ত্রা, যজন করিয়া, পূজা করিয়া।
(২) ই+ন্ধ্রা অন্বেষণ করিয়া। ‘ইষ্ট’ কর্মে অর্থাৎ যজ্ঞকর্মে পূজা করিয়া (ইষ্টা) ব্রহ্মলোক লাভ করা হয়; আবার ব্রহ্মচর্য দ্বারা আত্মাকে অন্বেষণ করিয়া (ইষ্টা) ব্রহ্মলোক লাভ করা যায়। উভয় স্থলেই ‘ইষ্টা’। সুতরাং ইষ্টই ব্রহ্মচর্য।