অথ যে চাস্যেহ জীবা যে চ প্রেতা যচ্চান্যদিচ্ছন্ন লভতে সর্বং তদ গত্বা বিন্দতেহএ হ্যস্যৈতে সত্যাঃ কামা অনৃতাপিধানাঃ। তদ্ যথাপি হিরণ্যনিধিং নিহিতমক্ষেত্রজ্ঞা উপর্যুপরি সঞ্চরন্তো ন বিন্দেয়ুরেবমে- বেমাঃ সর্বাঃ প্রজা অহরহর্গচ্ছন্ত্য এতং ব্রহ্মলোকং ন বিন্দন্ত্যনৃতেন হি প্রত্যূঢ়াঃ ॥ ২
অন্বয় : অথ যে চ (যাহারা) অস্য (ইহার; শঙ্করের মতে বিদ্বান জীবের) ইহ জীবাঃ (জীবিত) যে চ প্রেতাঃ (যে দূরে গমন করে, মৃত), যৎ চ অন্যৎ (অন্য যে সমুদয় বস্তু) ইচ্ছন্ (ইচ্ছা করিয়া) ন লভতে (প্রাপ্ত হয়)—সর্বম্ তৎ (সেই সমুদয়) অত্র (এই স্থানে) গত্বা (গমন করিয়া) বিন্দতে (লাভ করে)। অত্র হি অস্য এতে সত্যাঃ কামাঃ অনৃত+অপিধানাঃ (১মঃ)। তৎ+যথা (যেমন) অপি হিরণ্যনিধিম্ (সুবর্ণরূপ ধনকে) নিহিতম্ অক্ষেত্রজ্ঞাঃ (ক্ষেত্রে নিহিত ধনের বিষয় যাহারা জানে না) উপরি+উপরি (বারংবার) সঞ্চরন্তঃ [অপি] (বিচরণ করিয়াও) ন (না) বিন্দেয়ুঃ (লাভ করিতে পারে),-এবম্ এব (এই প্রকার) ইমাঃ সর্বাঃ প্রজাঃ (এই সমুদয় প্রাণী) অহঃ+অহঃ (প্রতিদিন) গচ্ছন্ত্যঃ (গমন করিয়া) এতম্ ব্রহ্মলোকম্ (এই ব্রহ্মলোককে) ন বিন্দন্তি (লাভ করে) অনূতেন (অসত্য দ্বারা) প্রত্যুঢ়াঃ (প্রতি-উহ; আচ্ছাদিত)।
সরলার্থ : আর ইহার যে সব আত্মীয় জীবিত রহিয়াছে ও যাহাদের মৃত্যু হইয়াছে এবং মানুষ ইচ্ছা করিয়াও যে সকল বস্তু লাভ করিতে পারে না—সেই হৃদয়াকাশে যাইয়া এই সমস্তই সে লাভ করে। মানুষের যাবতীয় সত্যকামনাই এইখানে বর্তমান; কিন্তু সে সব অসত্য আবরণে আবৃত। অক্ষেত্রজ্ঞ ব্যক্তি যেমন বারবার বিচরণ করিয়াও ক্ষেত্রে নিহিত সুবর্ণধন লাভ করিতে পারে না, তেমনি প্রাণিগণ অহরহ ব্রহ্মলোকে গেলেও সত্য বস্তু লাভ করিতে পারে না, কারণ তাহারা অসত্য দ্বারা আচ্ছাদিত।
মন্তব্য : এই হৃদয়াকাশে বিশ্বচরাচর নিহিত। সুষুপ্তির সময়ে সকলেই এইখানে ব্রহ্মের সহিত সম্মিলিত হয়; এই সময়ে সকলেই বিশ্বচরাচর সহ ব্রহ্মলাভ করিয়া থাকে। তবে যে ইহা জানিতে পারে না তাহার কারণ অজ্ঞানতা।