তদ্ যথেহ কর্মজিতো লোকঃ ক্ষীয়ত এবমেবামুত্র পুণ্যজিতো লোকঃ ক্ষীয়তে। তদ্ য ইহাত্মানমননুবিদ্য ব্ৰজন্ত্যেতাংশ্চ সত্যান্ কামা – স্তেষাং সর্বেষু লোকেম্বকামচারো ভবতি। অথ য ইহাত্মানমনুবিদ্য ব্ৰজন্ত্যেতাংশ্চ সত্যান্ কামাংস্তেষাং সর্বেষু লোকেষু কামচারো ভবতি॥৬
অন্বয় : তৎ যথা (যেমন) ইহ (এই জগতে) কর্মজিতঃ (কর্মলব্ধ, রাজসেবাদি কর্মদ্বারা লব্ধ) লোকঃ (ক্ষেত্রাদি) ক্ষীয়তে (ক্ষয়প্রাপ্ত হয়), এবম্ এব (এই প্রকার) অমূত্র (পরলোকে) পুণ্যজিতঃ (অগ্নিহোত্রাদি এবং দানাদি দ্বারা লব্ধ) লোকঃ (স্বর্গাদি) ক্ষীয়তে। তৎ যে (যাহারা) ইহ আত্মানম্ (আত্মাকে) অননুবিদ্য (না জানিয়া, লাভ না করিয়া; অনুবিদ্যা—জানিয়া বা লাভ করিয়া) ব্রজন্তি (পৃথিবী হইতে চলিয়া যায়), এতান্ চ সত্যান্ কামান্ (এই সমুদয় সত্য কামনাকে), তেষাম্ (তাহাদিগের) সর্বেষু লোকে (সর্বলোকে) অকামচারঃ (পরাধীনতা) ভবতি (হয়)। অথ (আর) যে (যাহারা) ইহ আত্মানম্ অনুবিদ্য ব্ৰজন্তি, এতান্ চ সত্যান্ কামান্, তেষাম্ সর্বেষু লোকেষু কামচারঃ (স্বাধীনতা) ভবতি।
সরলার্থ : কিন্তু কর্মলব্ধ এই সব বস্তু অর্থাৎ ভূমি কি জনপদের (ইহলোকে) যেমন ক্ষয় হয় তেমনি পরলোকেও পুণ্যার্জিত ভোগের বিনাশ হইয়া থাকে। যে ব্যক্তি ইহলোকে এই আত্মাকে এবং সত্যকামনাসমূহকে না জানিয়া চলিয়া যায়, সে সর্বলোকে পরাধীন হয়, আর যিনি ইহলোকে এই আত্মাকে এবং সত্যকামনাসমূহকে জানিয়া দেহত্যাগ করেন সর্বলোকে তাঁহার স্বাধীন গতি হইয়া থাকে।
মন্তব্য : শঙ্করাচার্য ৫ম মন্ত্রের শেষ অংশ এবং ৬ষ্ঠ মন্ত্রের প্রথমাংশকে পৃথক পৃথক দৃষ্টান্তরূপে গ্রহণ করিয়াছেন। তিনি পঞ্চম মন্ত্রের শেষ অংশের এইরূপ ব্যাখ্যা দিয়াছেন—প্রজাগণ যাহাকে প্রভু বলিয়া মনে করে, তাহার শাসনের অধীন হইয়া জনপদ ক্ষেত্রভাগাদি ভোগ করিয়া থাকে। এখানে প্রজার যেমন স্বাধীনতা নাই, তেমনি পুণ্যফলভোগেও মানুষের স্বাধীনতা নাই। শঙ্করাচার্য বলেন এই দৃষ্টান্ত দ্বারা পুণ্যফলভোগের অস্বাতন্ত্র্য-দোষ দেখান হইয়াছে এবং ৬ষ্ঠ মন্ত্রে অন্য একটি দৃষ্টান্ত দ্বারা দেখান হইয়াছে যে, কর্মফলের ক্ষয় হইয়া থাকে।