শ্যামাচ্ছবলং প্রপদ্যে শবলাচ্ছ্যামং প্রপদ্যেহশ্ব ইব রোমাণি বিধূয় পাপ চন্দ্র ইব রাহোর্মুখাৎ প্রমুচ্য ধূত্বা শরীরমকৃতং কৃতাত্মা ব্ৰহ্মলোকমভি সম্ভবামীত্যভিসম্ভবামীতি ॥ ১
অন্বয় : শ্যামাৎ (শ্যাম অর্থাৎ কৃষ্ণবর্ণ অর্থাৎ একাকার ব্রহ্ম হইতে) শবলম্ (বিচিত্র ‘ব্রহ্মকে’) প্রপদ্যে (প্রাপ্ত হই)। শবলাৎ (বিচিত্র ব্রহ্ম হইতে) শ্যামম্ (একাকার ব্রহ্মকে) প্রপদ্যে। অশ্ব ইব রোমাণি (অশ্ব যেমন লোমসমূহকে বিধূয় (কম্পিত করিয়া, দূর করিয়া) পাপম্ (পাপকে), চন্দ্রঃ ইব (চন্দ্ৰ যেমন রাহোঃ (রাহুর) মুখাৎ (মুখ হইতে) প্রমুচ্য (প্রমুক্ত হইয়া) ধূত্বা (ত্যাগ করিয়া) শরীরম্, অকৃতম্ [ব্রহ্মলোকম্] (অসৃষ্ট বা নিত্য ব্রহ্মলোককে) কৃতাত্মা (কৃতকৃত্য হইয়া) ব্রহ্মলোকম্ অভিসম্ভবামি (প্রাপ্ত হই) ইতি—অভিসম্ভবামি ইতি (দ্বিরুক্তি সমাপ্তিসূচক)।
সরলার্থ : আমি শ্যামবর্ণ (অর্থাৎ হৃদয়স্থিত ভেদরহিত ব্রহ্ম) হইতে বিচিত্রবর্ণে (বিচিত্রতাপূর্ণ ব্রহ্মে) যাই। আবার বিচিত্র হইতে শ্যামবর্ণে যাই। অশ্ব যেমন লোম কম্পিত করে, তেমনি আমি পাপকে (কম্পিত করিয়া) দূর করি; চন্দ্র যেমন রাহুর মুখ হইতে মুক্ত হয়, আমিও তেমনি শরীর হইতে মুক্তি লাভ করি। তারপর কৃতাত্মা হইয়া অসৃষ্ট (অর্থাৎ শাশ্বত) ব্ৰহ্মলোক লাভ করি, (ব্রহ্মলোকই) লাভ করি।
মন্তব্য : শঙ্করের মতে শ্যাম=হৃদয়স্থ ব্রহ্ম। দুরবগাহ্য বলিয়া ইহাকে শ্যাম অর্থাৎ কৃষ্ণবর্ণ বলা হইয়াছে। শবল=বহু কামনাযুক্ত ব্রহ্মলোক।