স যশ্চিত্তং ব্রহ্মেত্যুপাস্তে চিত্তান্ বৈ স লোকান্ ধুবান্ ধ্রুবঃ প্রতিষ্ঠিতা প্রতিষ্ঠিতোহব্যথমানানব্যথমানোহভিসিধ্যতি যাবচ্চিত্তস্য গতং তত্রাস্য যথাকামচারো ভবতি যশ্চিত্তং ব্রহ্মেত্যুপাস্তেঽস্তি ভগবশ্চিত্তাদ্ভূয় ইতি চিত্তাদ্ বাব ভূয়োহস্তীতি তন্মে ভগবান্ ব্রবীত্বিতি ॥ ৩
অন্বয় : সঃ যঃ (২।১১।২ মন্তব্য) চিত্তম্ ব্রহ্ম ইতি উপাস্তে, চিত্তান্ [লোকান্] (যে সমুদয় লোকের বিষয় বিবেচনা করা হইয়াছে, সেই সমুদয় লোককে) বৈ সঃ লোকান্ ধুবান্ ধ্রুবঃ, প্রতিষ্ঠিতান্ প্রতিষ্ঠিতঃ, অব্যথমানান্ অব্যথমানঃ অভিসিধ্যতি। যাবৎ চিত্তস্য গতম্, তত্র অস্য যথাকামচারঃ ভবতি—যঃ চিত্তম্ ব্রহ্ম ইতি উপস্তে’ অস্তি ভগবঃ চিত্তাৎ (চিত্ত অপেক্ষা) ভূয়ঃ ইতি। চিত্তাৎ বাব ভূয়ঃ অস্তি ইতি। তৎ মে ভগবান্ ব্রবীতু ইতি (৭।১।৫ দ্রঃ)।
সরলার্থ : যিনি চিত্তকে ব্রহ্মরূপে উপাসনা করেন, তিনি যে সব লোকের বিষয় অন্তরে বিবেচনা করেন, সেই সব লোক লাভ করেন। তিনি ধ্রুব হইয়া ধ্রুবলোক সুপ্ৰতিষ্ঠ হইয়া সুপ্রতিষ্ঠ লোক, ব্যথারহিত হইয়া ব্যথারহিত লোক লাভ করেন। যিনি চিত্তকে ব্রহ্মরূপে উপাসনা করেন—চিত্তের যত দূর গতি, তত দূর তাঁহার ইচ্ছানুরূপ গতি হয়। (নারদ)— ‘ভগবান, চিত্ত অপেক্ষা কি কিছু শ্রেষ্ঠ আছে?’ (সনৎকুমার)’চিত্ত অপেক্ষাও শ্রেষ্ঠ বস্তু আছে। (নারদ)— ‘আপনি তাহা আমাকে বলুন।
মন্তব্য : শঙ্কর বলেন—চিত্তান্ (উপচিতান্) = যাহা সঞ্চয় করা হইয়াছে, তাহাকে। চতুর্থ খণ্ডে সঙ্কল্পের গুণকীর্তন করা হইয়াছে এবং ইহার তৃতীয় মন্ত্রে কৃন্তান্ লোকান’ লাভের বিষয় উল্লিখিত হইয়াছে। এই খণ্ডে (৭।৫) চিত্তের মহিমা বর্ণনা করা হইয়াছে এবং এখানে ‘চিত্তান্ লোকান্’ লাভের বিষয় বলা হইতেছে। উভয় অংশ তুলনা করিলেই বুঝা যাইবে যে, ‘কৃন্তান্’-এর সহিত সঙ্কল্পের যে সম্বন্ধ, ‘চিত্তান্’-এর সহিতও চিত্তের সেই সম্পর্ক। কৃপ্ত, কল্প, সঙ্কল্প একই ধাতু হইতে নিষ্পন্ন; ‘চিত্তান্’, ‘চিত্ত’ও সেইরূপ এক ধাতু হইতে নিষ্পন্ন। সুতরাং চিত্তান্ লোকান্=যে সমুদয় লোকের বিষয় বিবেচনা (চিত্ত) করা হইয়াছে, সেই সমুদয় লোককে।