অশনাপিপাসে মে সোম্য বিজানীহীতি যত্রৈত পুরুষোঽশিশিষতি নামাপ এব তদশিতং নয়ন্তে তদ্্যথা গোনায়োহশ্বনায়ঃ পুরুষনায় ইত্যেবং তদপ আচক্ষতেহশনায়েতি তত্রৈতচ্ছৃঙ্গমুৎপতিতং সোম্য বিজানীহি নেদমমূল ভবিষ্যতীতি ॥ ৩
অন্বয় : অশনা—পিপাসে (ক্ষুধা ও পিপাসাকে; এস্থলে ‘আশনা’ বৈদিক প্ৰয়োগ; অশনায়া—ভোজন করিবার ইচ্ছা) মে (আমার নিকট) সোম্য; বিজানীহি (অবগত হও) ইতি। যত্র (যখন) এতৎ পুরুষঃ (এই পুরুষ) অশিশিষতি (ক্ষুধার্ত হয়) নাম, আপঃ (জল) এব তৎ অশিতম্ (সেই ভুক্ত খাদ্যকে) নয়ন্তে (যথাস্থানে লইয়া যায়)। তৎ যথা (যেমন ৪।১৬।৩ মন্তব্য) গোনায়ঃ অশ্বনায়ঃ, পুরুষনায়ঃ ইতি (এই সমুদয় বলা হয়), এবম্ (এই প্রকার) তং (সেইজন্য) অপঃ (জলকে) আচক্ষতে (বলা হয়) অশনায় ইতি। তত্র (সেই বিষয়ে) এবং শুঙ্গম্ (এই অঙ্কুর শরীর) উৎপতিতম্ (উৎপন্ন হইয়াছে) সোম্য, বিজানীহি (জানিও)। ন (না) ইদম্ (ইহা) অমূলম (মূলবিহীন) ভবিষ্যতি (হইবে) ইতি।
সরলার্থ : সৌম্য, ক্ষুধা ও তৃষ্ণার কথা আমার নিকট শোন। যখন পুরুষ ক্ষুধার্ত হয় তখনই জলই অনুকে (যথাস্থানে বা যথাকার্যে) চালাইয়া নিয়া যায় (অর্থাৎ ঐ অন্নের নেতা হয়)। যেমন (গো-নেতাকে) ‘গোনায়’, (অশ্ব-নেতাকে) ‘অশ্বনায়’, (পুরুষের নেতাকে) ‘পুরুষনায়” (বলা হয়), তেমনি জলকে ‘অশনায়’ অর্থাৎ অশনের (অন্ন বা খাদ্যের) নেতা বলা হয়। এই ভাবে এই অঙ্কুর (রূপ-শরীর) উৎপন্ন হয়। (এই শরীর) কারণবিহীন নহে।
মন্তব্য : যত্র এতৎ পুরুষঃ ইত্যাদি— এই অংশের দুই প্রকার অন্বয় হইতে পারে— (ক) যত্র এতৎ পুরুষঃ অশিশিষতি নাম— যখন এই পুরুষ ক্ষুধার্ত হয়; ‘নাম’ বাক্যালঙ্কারে। (খ) যত্র পুরুষঃ অশিশিষ্যতি এতৎ নাম— যখন পুরুষ ‘অশিশিষতি ‘ (ক্ষুধার্ত হয়) এই নামযুক্ত হয়। (৬।৮।১ মন্তব্য দ্রষ্টব্য)।