সেয় দেবতৈক্ষত হন্তাহমিমাস্তিস্ত্রো দেবতা অনেন জীবেনাত্মনানুপ্রবিশ্য নামরূপে ব্যাকরবাণীতি ॥ ২
তাসাং ত্রিবৃতং ত্রিবৃতমেকৈকাং করবাণীতি সেয়ং দেবতেমাস্তিস্রো দেবতা অনেনেব জীবেনাত্মনানুপ্রবিশ্য নামরূপে ব্যাকরোৎ ॥ ৩
অন্বয় : সা ইয়ম্ দেবতা (সেই এই দেবতা) ঐক্ষত (আলোচনা বা সঙ্কল্প করিলেন, ৬।২।৩ মন্তব্য) হন্ত (আচ্ছা, বেশ) অহম্ (আমি) ইমাঃ তিস্রঃ দেবতাঃ (এই তিন দেবতাতে অর্থাৎ তেজ, জল অন্ন— এই তিন দেবতাতে) অনেন জীবেন আত্মনা (এই জীবাত্মারূপে) অনুপ্রবিশ্য (অনুপ্রবেশ করিয়া) নামরূপে (নাম ও রূপকে) ব্যাকরবাণি ব্যাকৃত করি, ব্যক্ত করি) ইতি। তাসাম্ (সেই তিন দেবতার ত্রিবৃতম্ ত্রিবৃতম্ (ত্রিবৃৎ ত্রিবৃৎ) একৈকাম্ (প্রত্যেককে) করবাণি (করি)। ইতি। সা ইয়ম্ দেবতা (সেই এই দেবতা) ইমাঃ তিসঃ দেবতাঃ (এই তিন দেবতাতে) অনেন এব জীবনে আত্মনা অনু প্রবিশ্য নামরূপে ব্যাকরোৎ (ব্যক্ত করিলেন)।
সরলার্থ : (২য় ও ৩য় মন্ত্ৰ সেই সৎস্বরূপ দেবতা সঙ্কল্প করিলেন— ‘আচ্ছা, আমি এই জীবাত্মারূপে এই তিন দেবতাতে (তেজ, জল ও অন্ন নামক দেবতাতে) অনুপ্রবিষ্ট হইয়া নাম ও রূপ ব্যক্ত করি। আমি এই তিন দেবতাকে ত্রিবৃৎ ত্রিবৃৎ করি।’ তারপর তিনি জীবাত্মারূপে এই সব দেবতার অভ্যন্তরে প্রবেশ করিয়া নাম ও রূপ ব্যক্ত করিলেন।
মন্তব্য : ৬।৩।৩ ত্রিবৃৎকরণের অর্থ এই— তেজ, জল ও পৃথিবী এই তিনটি ভূত। তেজ যে কেবল বিশুদ্ধ তেজ, তাহা নহে, ইহাতে জল ও পৃথিবী এই দুই-এর অংশও আছে। তবে তেজে তেজের অংশই বেশি। এইরূপ জলে তেজ ও পৃথিবীর অংশও আছে। আমাদের দেশের দার্শনিকগণ বলেন— তেজ = ১/২ ভাগ তেজ + ১/৪ ভাগ জল + ভাগ পৃথিবী। জল = ১/২ ভাগ জল + ১/৪ ভাগ তেজ + ১/৪ ভাগ পৃথিবী। পৃথিবী = ১/২ ভাগ পৃথিবী + ১/৪ ভাগ তেজ + ১/৪ ভাগ জল।