পঞ্চ মা রাজন্যবন্ধুঃ প্রশ্নানপ্রাক্ষীত্তেষাং নৈকঞ্চনাশকং বিবক্তমিতি। স হোবাচ যথা মা ত্বং তদৈতানবদো যথাহমেষাং নৈকঞ্চন বেদ যদ্যহমিমানবেদিষ্যং কথং তে নাবক্ষ্যমিতি ॥ ৫
অন্বয় : পঞ্চ (পাঁচটি) মা (আমাকে) রাজন্যবন্ধু প্রশান্ (প্রশ্নসমূহ) অপ্রাক্ষী (জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন)। তেষাম্ (সেই সমুদয় প্রশ্নের) ন একম্ + চন (একটিও) অশকম্ (সমর্থ হইয়াছি) বিবক্কুম্ (বলিতে) ইতি। সঃ (পিতা) হ উবাচ (বলিলেন) — যথা (যে, যে প্রকার) মা ত্বং তদা (তখন, রাজসভা হইতে প্রত্যাগমন করিয়া) এতান্ (এই সমুদয়কে; এই সমুদয় প্রশ্নকে) অবদঃ (বলিয়াছিলেন) যথা (যেহেতু) অহম্ (আমি) এষাম্ (এ সমুদয়ের) ন একচন (একটিও) বেদ (জানি)—যদি অহম্ ইমান্ (এ সমুদয়কে) অবেদিষ্যম্ (জানিতাম), কথম্ (কেন) তে (তোমাকে) ন অবক্ষ্যম্ (বলিতাম) ইতি?
সরলার্থ : (শ্বেতকেতু)——সেই রাজন্যবন্ধু আমাকে পাঁচটি প্রশ্ন করিয়াছিল। আমি তাহার একটিরও উত্তর দিতে পারি নাই। পিতা (এই সমুদয় প্রশ্নের বিষয় মনে মনে আলোচনা করিয়া সময়ান্তরে) বলিলেন—’তুমি তখন (অর্থাৎ রাজার নিকট হইতে ফিরিয়া) আমাকে যে সব প্রশ্নের কথা বলিয়াছিলে (সেই বিয়য়ে আমার বক্তব্য আমি বলি, শুন)। যেহেতু আমি ইহার একটিও জানি না (সেইজন্য তোমাকে এ বিষয়ে উপদেশ দিই নাই)। যদি আমি জানিবই তবে কেনই বা তোমাকে না বলিব?”
মন্তব্য : রাজন্যবন্ধুঃ—রাজার গুণ নাই, কেবল রাজগণের বন্ধু বলিয়া রাজা। ইহা একটি ঘৃণাসূচক বাক্য। ব্রহ্মবন্ধু, দ্বিজবন্ধু, ক্ষত্রবন্ধু প্রভৃতি কথারও অর্থ এইরূপ। এই স্থলে ‘রাজন্য’ শব্দ ‘রাজা’ অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে; কিন্তু প্রাচীনকালে ক্ষত্রিয় এবং রাজবংশের লোকদিগকেও ‘রাজন্য’ বলা হইত।