ঔপমন্যব কং ত্বমাত্মানমুপাস ইতি দিবমেব ভগবো রাজনিতি হোবাচৈষ বৈ সুতেজা আত্মা বৈশ্বানরো যং ত্বমাত্মানমুপাসে তস্মাত্তব সুতং প্রসুতমাসুতং কুলে দৃশ্যতে ॥১
৪১৯. অৎস্যন্নং পশ্যসি প্রিয়মত্ত্যনুং পশ্যতি প্রিয়ং ভবত্যস্য ব্রহ্মবর্চসং কুলে য এতমেবামাত্মানং বৈশ্বানরমুপাস্তে মূর্ধা ত্বেষ আত্মন ইতি হোবাচ মূর্ধা তে ব্যপতিষ্যদ্ যন্মাং নাগমিষ্য ইতি ॥ ২
অন্বয় : ঔপমন্যব (হে উপমন্যুর পুত্র) কম্ (কাহাকেও) ত্বম্ (তুমি) আত্মানম্ (আত্মারূপে) উপাসে (উপাসনা কর)? ইতি। দিবম্ এব (দ্যুলোককেই) (প্রাচীন প্রয়োগ)) রাজন্! ইতি হ উবাচ। এষঃ (এই) দ্যৌ বৈ (নিশ্চয়ই) সুতেজাঃ (শোভন তেজোযুক্ত) আত্মা বৈশ্বানরঃ যম্ (যাহাকে) ত্বম্ আত্মানম্ উপাসে। তস্মাৎ (সেইজন্য) তব (তোমার) সুতম্, প্রসুতম্ আসুতম্ কুলে দৃশ্যতে (দৃষ্ট হয়)। অৎসি (ভোজন করিতেছ) অন্নম্, পশ্যসি (দর্শন করিতেছ) প্রিয়ম্ (প্রিয়বস্তুকে, প্রিয়জনকে)। অত্তি (ভোজন করে) অন্নম্ পশ্যতি (দর্শন করে) প্রিয়ম্ ভবতি (হয়) অস্য (ইহার) বহ্মবর্চসম্ (বেদজ্ঞানজনিত দীপ্তি) কুলে যঃ (যিনি) এতম্ (ইহাকে) এবম্ (এইরূপে) আত্মানম্ বৈশ্বানরম্ (বৈশ্বানর আত্মারূপে) উপাস্তে (উপাসনা করে)। মূর্ধা (মস্তক) তু এষ (এই) আত্মনঃ (আত্মার) ইতি হ উবাচ (বলিলেন)। মূর্ধা তে (তোমার) ব্যপতিষ্যৎ (পতিত হইত) যৎ (যদি) মাম্ (আমার নিকট) ন আগমিষ্যঃ (আসিতে) ইতি। [‘এতম্… বৈশ্বানরম্ আত্মানম্’ অংশের দুই অর্থ হইতে পারে— (১) এই বৈশ্বানর আত্মাকে, (২) ইহাকে বৈশ্বানর আত্মারূপে]।
সরলার্থ : (১ম ও ২য় মন্ত্ৰ)——হে ঔপমন্যব! তুমি কাহাকে আত্মারূপে উপাসনা কর?’ ঔপমন্যব বলিলেন ‘হে ভগবান রাজা; আমি দ্যুলোককেই আত্মা বলিয়া উপাসনা করি।’ অশ্বপতি বলিলেন—’তুমি যাঁহাকে আত্মা বলিয়া উপাসনা কর, ইনি নিশ্চয়ই অতি তেজোময় বৈশ্বানর আত্মা। এই জন্য তোমার কুলে সুত, প্রসুত ও আসুত দেখা যায়। এই জন্য অন্নভোজন করিতেছ, প্রিয়জন বা প্রিয়বস্তু দেখিতেছ (অর্থাৎ লাভ করিতেছ)। যিনি এইরূপে এই বৈশ্বানর আত্মাকে উপাসনা করেন, তিনি অন্ন ভোঁজন করেন, প্রিয়জনকে দেখেন এবং তাঁহার কুলে ব্রহ্মতেজ বর্তমান থাকে। কিন্তু এই দ্যুলোক আত্মার মস্তক মাত্র। তুমি যদি আত্মতত্ত্ব শিখিবার জন্য আমার নিকটে না আসিতে তোমার মস্তক খসিয়া পড়িত।
মন্তব্য : ৫।১২।১ সুত, প্রসুত এবং আসুত—এই তিনটি সোমরসের কিংবা সোমসবনের বিভিন্ন নাম। ‘একাহ’ যজ্ঞে ইহার নাম ‘সুত’, ‘অহীন’ যজ্ঞে ইহার নাম ‘প্রসুত’ এবং ‘সত্র’ যজ্ঞে ইহার নাম, ‘আসুত’ (আনন্দগিরি)। সুতেজা, সুত, প্রসুত ও আসুত-এই কয়েক শব্দেই ‘সুত’ রহিয়াছে। এইজন্যই সম্ভবত সুত, প্রসুত ও আসুতকে সুতেজার উপাসনার ফল বলিয়া বর্ণনা করিয়াছেন। পরবর্তী কয়েকটি খণ্ডে বলা হইয়াছে যে, উপাস্য দেবতার যে নাম উপাসনার ফলেরও তাহাই নাম। শতপথ ব্রাহ্মণে (১০।৬।১) এইস্থলে ‘সুততেজা’ ব্যবহৃত হইয়াছে।