তে হ সম্পাদয়াঞ্চকুরুদ্দালকো বৈ ভগবন্তোহয়মারুণিঃ সম্প্রতীমমাত্মানং বৈশ্বানরমধ্যেতি তং হন্তাভ্যাগচ্ছামেতি তং হাভ্যাজঃ ॥ ২
অন্বয় : তে (তাহারা) হ সম্পাদয়াম্ চক্ষুঃ (নিরূপণ করিলেন)– উদ্দালকঃ বৈ, ভগবন্তঃ (হে ভগবদ্গণ) অয়ম্ আরুণিঃ (এই আরুণি) সম্প্রতি (বর্তমান সময়ে) ইমম্ আত্মানম্ বৈশ্বানরম্ (এই বৈশ্বানর আত্মাকে) অধ্যেতি (জানেন) তম্ (তাঁহার নিকট) হন্ত (ব্যাকুলতা বা আনন্দসূচক অব্যয়) অভি + আগচ্ছাম (আমরা যাই) ইতি। তম্ হ অভি + আজঃ (গমন করিয়াছিল)।
সরলার্থ : তাঁহারা (এ বিষয়ে যাহা) স্থির করিলেন (তাঁহাদিগের মধ্যে একজন অপর সরলকে তাহা বলিলেন) ‘ভগবানগণ, উদ্দালক আরুণি এই বৈশ্বানর আত্মার বিষয় জানেন। চলুন তাঁহার নিকট যাই।’ তারপর তাঁহারা তাঁহার নিকট গেলেন।
মন্তব্য : বৈশ্বানর— বিশ্ব এবং নর এই দুইটি শব্দ হইতে বৈশ্বানরের উৎপত্তি। বিশ্বসমুদয়; নর—মানব। নর শব্দ ‘নৃ’ ধাতু হইতেও হইতে পারে; তাহা হইলে নর— নেতা। ‘বৈশ্বানর’ শব্দের এই সকল অর্থ হইতে পারে— (ক) যিনি সমুদয় নরের মধ্যে বর্তমান। (খ) যিনি সকলের নেতা। (গ) যিনি সমস্ত নরের হিতকর। (ঘ) সমুদয় নর যাঁহাকে স্থাপন করে অর্থাৎ অগ্নি। (ঙ) সমুদয় মানব যাঁহার।