প্রাচীনশাল ঔপমন্যবঃ সত্যযজ্ঞঃ পৌলুষিরিন্দ্রদ্যুম্নো ভাল্লবেয়া জনঃ শার্করাক্ষ্যো বুড়িল আশ্বতরাশ্বিস্তে হৈতে মহাশালা মহা- শ্রোত্রিয়াঃ সমেত্য মীমাংসাঞ্চঙ্কুঃ কোন আত্মা কিং ব্রহ্মেতি ॥১
অন্বয় : প্রাচীনশালঃ ঔপমন্যবঃ (উপমন্যুর পুত্র প্রাচীনশাল) সত্যযজ্ঞঃ পৌলুষিঃ (পুলুষের পুত্র বা বংশোদ্ভব), ইন্দ্রদ্যুম্নঃ ভাল্লবেয়ঃ (ভাল্লুবিপুত্র; ভাল্লবি—ভল্লবির পুত্র), জনঃ শার্করাক্ষ্যঃ (শর্করাক্ষের পুত্র), বুড়িলঃ আশ্বতরাশ্বিঃ (অশ্বতরাশ্বপুত্র)—তে হ এতে (এই তাহারা) মহাশালাঃ (মহাগৃহস্থগণ; মহাশালা যাহাদিগের; শালা—গৃহ), মহাশ্রোত্রিয়াঃ (যাহারা ছন্দঃ অর্থাৎ বেদ অধ্যায়ন করে তাহারা, কিংবা শ্রোত্র— বেদজ্ঞান; শ্রোত্রিয়—বেদজ্ঞানসম্পন্ন) সমেত্য (একত্র হইয়া) মীমাংসাম্ চকুঃ (মীমাংসা করিয়াছিল) কঃ (কে), নঃ (আমাদিগের) আত্মা; কিম্ (কি) ব্রহ্ম ইতি।
সরলার্থ : উপমন্যুর পুত্র প্রাচীনশাল, পুলুষপুত্র সত্যযজ্ঞ, ভাল্লুবিপুত্ৰ ইন্দ্ৰদ্যুম্ন, শর্করাক্ষপুত্র জন এবং অশ্বতরাশ্ব পুত্র বুড়িল— এই কয় মহাগৃহস্থ এবং বেদজ্ঞানী মিলিত হইয়া এই বিচার করিয়াছিলেন—’কে আমাদিগের আত্মা? ব্ৰহ্ম কি?”
মন্তব্য : (ক) জৈমিনীয় উপনিষদ্ ব্রাহ্মণে প্রাচীনশালী নামক একজন উদ্গাতার উল্লেখ আছে (৩।৭।২; ৩।১০।২) এবং প্রাচীনশালদিগেরও নাম পাওয়া যায় (৩।১০।১)। (খ) এই উপনিষদের ৫।১০।১ অংশে সত্যযজ্ঞ পৌলুষিকে প্রাচীন-যোগ্য (অর্থাৎ প্রাচীনযোগের বংশোদ্ভব) বলা হইয়াছে। ব্রাহ্মণ (১০।৬।১।১) এবং জৈমিনীয় উপনিষদ ব্রাহ্মণে ইঁহার নাম পাওয়া যায়। সত্যযজ্ঞ, পুলুষ প্রাচীনযোগ্যের শিষ্য ছিলেন (জৈঃ উঃ ব্রাঃ ৩।৪০।২)। (গ) ইন্দ্রদ্যুম্ন ভাল্লবেয়কে বৈয়াঘ্রপদ্য (অর্থাৎ ব্যাঘ্রপদের অপত্য) বলা হইয়াছে (৫।১৪।১)। শতপথ ব্রাহ্মণেও ইহার নাম পাওয়া যায় (১০।৬।১।৮)। (ঘ) বুড়িল আশ্বতরাশ্বিকেও বৈয়াঘ্রপদ্য বলা হইয়াছে (৪।১৫।১)। ঐতরেয় ব্রাহ্মণে (৬।৩০) এবং বৃহদারণ্যক উপনিষদ (৫।১৪।৮) এবং শতপথ ব্রাহ্মণে (১০।৬।১।১) ইঁহার নাম পাওয়া যায়। (ঙ) জন শার্করাক্ষ্যের নাম শতপথ ব্রাহ্মণে পাওয়া যায় (১০।৬।১।১)।