তদ্ য ইত্থং বিদুর্যে চেমেহরণ্যে শ্রদ্ধা তপ ইত্যুপাসতে তেহর্চিষমভিসম্ভবন্ত্যৰ্চিযোহহরহ্ন আপূর্যমাণপক্ষমাপূর্যমাণপক্ষাদ্ যান্ ষড়দঙঙেতি মাসাংস্তান্ ॥ ১
৪০২. মাসেভ্যঃ সংবৎসরং সংবৎসরাদাদিত্যমাদিত্যাচ্চন্দ্রমসং চন্দ্ৰমস্যে বিদ্যুতৎ তৎ পুরুষোহমানবঃ স এনান্ ব্রহ্ম গময়ত্যেষ দেবযানঃ পন্থা ইতি ॥ ২
অন্বয় : তৎ (পঞ্চাগ্নিবিদ্যাকে) যে (যাহারা) ইথম্ (অব্যয়, ইদম্ + অম্, এই প্রকারে) বিদুঃ (জানেন), যে চ ইমে (এই যাঁহারা) অরণ্যে শ্রদ্ধা তপঃ ইতি উপাসতে, তে (তাহারা) অর্চিষম্ (অর্চিকে) অভিসম্ভবন্তি (প্রায় হয়)। অর্চিষঃ অহঃ; আপূর্যমাণ- পক্ষম্; অহ্নঃ আপূর্যমাণ-পক্ষাৎ যান্ ষট্ উদঙ্ এতি মাসান্ তান্ (৪।১৫।৫ দ্রঃ)। মাসেভ্যঃ সংবৎসরম্; সংবৎসরাৎ আদিত্যম্, আদিত্যাৎ চন্দ্রমসম্ চন্দ্রমসঃ বিদ্যুতম্। তৎপুরুষঃ অমানবঃ সঃ এনান্ ব্রহ্ম গময়তি। এষঃ দেবযানঃ পন্থাঃ ইতি।
সরলার্থ : (১ম ও ২য় মন্ত্র) যাঁহারা পঞ্চাগ্নিবিদ্যা জানেন এবং যাঁহারা অরণ্যে শ্রদ্ধা ও তপস্যার উপাসনা করেন তাঁহারা (মৃত্যুর পর) অর্চিতে গমন করেন। অর্চি হইতে দিনে, দিন হইতে শুক্লপক্ষে, শুক্লপক্ষ হইতে উত্তরায়ণে ছয় মাসে গমন করেন। মাসসমূহ হইতে সংবৎসরে, সংবৎসর হইতে আদিত্যে, আদিত্য হইতে চন্দ্রে, চন্দ্র হইতে বিদ্যুতে গমন করেন। সেই স্থানে এক অমানব পুরুষ তাহাদিগকে ব্ৰহ্মলাভ করায়। ইহাই দেবযান পথ।
মন্তব্য : ৫।১০।৯ শ্রদ্ধা তপঃ ইতি— কেহ কেহ অর্থ করেন, ‘শ্রদ্ধাই তপস্যা’ এই ভাবে। ডয়সন্ বলেন, ‘অর্চি’ অর্থ চিন্তাগ্নির শিখা ি
বৃহদারণ্যক উপনিষদেও (৬।২।১৫-১৬) এই তত্ত্ব (দেবযান ও পিতৃযাণ) বিবৃত হইয়াছে। উভয় উপনিষদে যেমন সাদৃশ্য রহিয়াছে তেমনি পার্থক্যও আছে। এই প্রসঙ্গে এখানে উভয়ের তুলনামূলক বিচার দেওয়া হইল। ছান্দোগ্যে আছে “যে চ ইমে অরণ্যে ‘শ্রদ্ধা তপঃ’ ইতি উপাসতে তে অর্চিষম্ অভিসম্ভবন্তি” অর্থাৎ যাহারা অরণ্যে শ্রদ্ধা ও তপস্যার উপাসনা করে তাহারা অর্চিতে গমন করে। বৃহদারণ্যকে আছে ‘যে চ অমী অরণ্যে শ্রদ্ধাম্ সত্যম্ উপাসতে তে অর্চিঃ অভিসম্ভবন্তি’ অর্থাৎ যাহারা অরণ্যে শ্রদ্ধা ও সত্যের উপাসনা করে তাহারা অর্টিতে গমন করে। ছান্দোগ্যের মতে তপস্যা দ্বারা দেবযান পথে গমন করা যায়, কিন্তু বৃহদারণ্যকে ইহা স্বীকার করা হয় নাই। ছান্দোগ্যের মতে মাসসমূহে গমন করিবার পর এই সমুদয়ে যথাক্রমে উপস্থিত হইতে হয়— সংবৎসর, আদিত্য, চন্দ্রমা, বিদ্যুৎ। বৃহদারণ্যকের মতে এই ক্রম—দেবলোক, আদিত্য, বিদ্যুৎ। বিদ্যুতে গমন করিবার পর সেই আত্মার ব্রহ্মপ্রাপ্তি হয়—ইহা উভয় উপনিষদেই বলা হইয়াছে। বৃহদারণ্যক উপনিষদে এই অংশ অতিরিক্ত আছে—’তেষু ব্রহ্মলোকেষু পরাঃ পরাবতঃ বসন্তি; তেষাম্ ন পুনরাবৃত্তিঃ’ (৬।২।১৫)। অর্থাৎ সেই সমুদয় ব্ৰহ্মলোকে তাহারা শ্রেষ্ঠত্ব লাভ করিয়া চিরকাল বাস করে; তাহাদিগের আর পুনরাবৃত্তি অর্থাৎ পৃথিবীতে আসিয়া জন্মগ্রহণ করিতে হয় না। ছান্দোগ্য উপনিষদের মতে যাহারা ইষ্টাপূর্ত ও দানের উপাসনা করে তাহারা ধূমের পথে গমন করে। বৃহদারণ্যকের মতে যাহারা যজ্ঞ, দান ও তপস্যা দ্বারা স্বর্গলোক জয় করে, তাহারাই ধূমের পথে গমন করে। ছন্দোগ্যের মতে মাসসমূহ হইতে পিতৃলোকে; পিতৃলোক হইতে আকাশে, আকাশ হইতে চন্দ্রমাতে গমন করে। কিন্তু বৃহদারণ্যকে লিখিত আছে-মাসসমূহ হইতে পিতৃলোকে এবং পিতৃলোক হইতে চন্দ্রমাতে গমন করে; আকাশের কোন উল্লেখ নাই। বৃহদারণ্যক বলেন—যখন চন্দ্রলোক হইতে প্রত্যাগমন করে, তখন সকলেই মানবরূপে জন্মগ্রহণ করে। ছান্দোগ্য বলেন— কেহ কেহ পশুরূপেও জন্মগ্রহণ করিয়া থাকে; যাহারা পূর্বজন্মে সাধু ছিল তাহারা ব্রাহ্মণ, ক্ষত্রিয়, বৈশ্যরূপে জন্মগ্রহণ করে, আর যাহারা অসাধু ছিল তাহারা কুকুর, শূকর বা চণ্ডাল রূপে জন্মগ্রহণ করে।