তস্যা হ মুখমুপোদ্গৃহনুবাচাজহারেমাঃ শূদ্রানেনৈব মুখেনালাপয়িষ্যথা ইতি তে হৈতে রৈকুপর্ণা নাম মহাবৃষেষু যত্রামা উবাস তস্মৈ হোবাচ ॥ ৫
অন্বয় : তস্যাঃ (জানশ্রুতির দুহিতার) হ মুখম্ উপ + উৎ + গৃহ্নন্ (হস্ত দ্বারা মুখ ধরিয়া) উবাচ (বলিলেন)—আজহার (আনিয়াছ) ইমাঃ (এই সমুদয়) শূদ্র! অনেন এব মুখেন (এই ‘কন্যার মুখ দ্বারাই) আলাপরিষ্যথাঃ (কথ বলাবেই) ইতি। তে হ এতে (সেই এই সমুদয়) রৈত্বপর্ণাঃ নাম (রৈকপর্ণা নামক গ্রামসমূহ) মহাবৃষেষু (মহাবৃষ প্রদেশে) যত্র (যেখানে) অস্মৈ (জানশ্রুতির জন্য অর্থাৎ তাহাকে উপদেশ দিবার জন্য) উবাস (বাস করিয়াছিলেন)। তস্মৈ (জানশ্রুতিকে) হ উবাচ (বলিলেন)।
সরলার্থ : (হাত দিয়া) সেই কন্যার মুখ তুলিয়া ধরিয়া রৈক্ব বলিলেন ‘হে শূদ্র, তুমি এই সব আনিয়াছ; (কিন্তু একমাত্র) এই মুখ দিয়াই (অর্থাৎ এই কন্যার মুখ দিয়াই) আমাকে কথা বলাইতেছ।’ মহাবৃষ প্রদেশে রৈক্বপর্ণ নামে গ্রামগুলিতে রৈক্ব জানশ্রুতিকে উপদেশ দিবার জন্য বাস করিলেন। তিনি তাঁহাকে বলিলেন—
মন্তব্য : (১) মোক্ষমুলার বলেন, উপোৎগৃহন্—মুখ খুলিয়া (বয়স জানিবার জন্য)। শঙ্করের মতে— ‘অবগত হইয়া’ অর্থাৎ ‘কন্যার মুখকে বিদ্যাদানের উপযুক্ত দ্বার বলিয়া অবগত হইয়া।’ রৈক্ব আদর করিয়া কন্যার মুখ ধরিয়াছিলেন—ইহাই প্ৰকৃত অর্থ বলিয়া মনে হয়
(২) অনেন এব মুখেন আলাপয়িষ্যথাঃ— এই কন্যার মুখ দ্বারাই আমাকে কথা বলাইতেছ। আর একাধিক অর্থ হইতে পারে— (ক) গবাদি লাভ করিয়াও আমি উপদেশ দিতে প্রস্তুত হই নাই; এখন তুমি কন্যা প্রদান করিতেছ। এই কন্যার মুখই আমাকে উপদেশ দেওয়াইয়া লইবে। অর্থাৎ এই কন্যার মুখ দেখিয়াই, এই কন্যা লাভ করিয়াই আমি উপদেশ দিব। (খ) এই কন্যার মুখ হইতেই যেন উপদেশ নিঃসৃত হইবে, আমি উপলক্ষ্য মাত্র। (গ) এই উপায় দ্বারাই অর্থাৎ কন্যাসম্প্রদান দ্বারাই; মুখ— উপায়।
(৩) ‘মহাবৃষ’ একটি জাতির নাম। ইহার যে দেশে বাস করিত সে দেশের নামও মহাবৃষ। অথর্ববেদ, বৌধায়ন শ্রৌতসূত্র (২।৫) এবং জৈমিনীয় ব্রাহ্মণে (১০।৪০।২) ইহাদিগের উল্লেখ আছে। অথর্ববেদের একটি মন্ত্রে বর্ণনা করা হইয়াছে যে, ‘তক্মা’ নামক একটা ব্যাধি মহাবৃষ জাতির একটি বিশেষ ব্যাধি (৫।২২)। মোক্ষমুলার মনে করেন, তক্মা এব প্রকার চর্মরোগ। আশ্চর্যের বিষয় এই যে, ‘পামা’ রোগগ্রস্ত রৈক্বও ঐ প্রদেশেই বাস করিতেন।