তমু হ পরঃ প্রত্যুবাচাহ হারেত্বা শূদ্র তবৈব সহ গোভিরস্থিতি তদু হ পুনরেব জানশ্রুতি পৌত্রায়ণঃ সহস্রং গবাং নিষ্কমশ্বতরীরথং দুহিতরং তদাদায় প্রতিচক্রমে। ৩
অন্বয় : তম্ (জানশ্রুতিকে) উ হ পরঃ (অপরজন, রৈক্ব) প্রতি + উবাচ (উত্তর করলেন)— অহ (ওহে) হার + ইত্বা (হারসহ শকট; ইত্বা রথ, যাহাতে গমন করা যায়) শূদ্র! তব এব (তোমারই) সহ গোভিঃ (গাভীগণ সহ) অস্তু (থাকুক) ইতি। তৎ (তাহার পর, কিংবা সেই জন্য) উ হ পুনঃ এব (পুনর্বার) জানশ্রুতিঃ পৌত্রায়ণঃ সহস্রম্ গবাম্ (এক হাজার গাভীকে), নিষ্কম্, অশ্বতরীরথম্ দুহিতরম্ (‘নিজ’ দুহিতাকে) তৎ (সেই স্থানে, কিংবা তাহার জন্য) আদায় প্রতিচক্রমে।
সরলার্থ : রৈক্ব তাঁহাকে বলিলেন— ‘ওহে শূদ্র, এই হার, এই রথ, এই সব গাভী তোমারই থাকুক।’ তখন জানশ্রুতি পৌত্রায়ণ এক হাজার গাভী, সোনার হার, অশ্বতরীযুক্ত রথ এবং কন্যাকে নিয়া আবার সেখানে গেলেন।
মন্তব্য : দুহিতরম্—যে দুগ্ধ দোহন করে। যাস্ক বলেন, ‘দুহিতা দুহিতা দূরে-হিতা দোগ্বের্বা। বিবাহের পর দূরে প্রেরণ করা হয় কিংবা দুগ্ধ দোহন করে, এই অর্থে দুহিতা। পাশ্চাত্য পণ্ডিতগণ উহার ভিন্ন ভিন্ন অর্থ করিয়াছেন— (১) যে দুগ্ধ দোহন করে; অতি প্রাচীনকালে কন্যাগণই দুগ্ধ দোহন করিত, এই জন্য তাহাদিগের নাম দুহিতা; (২) যে মাতার দুগ্ধ পান করে; (৩) যে দুগ্ধ দ্বারা সন্তান পোষণ করে।
এই উপনিষদে দুই স্থলে (৪।২।৩,৫) জানশ্রুতিকে শূদ্র বলিয়া সম্বোধন করা হইয়াছে। অথচ রৈক্ব ইহাকেই ব্রহ্মবিদ্যা শিক্ষা দিয়াছিলেন। ইহাতে কেহ কেহ বলিতে পারেন যে, তবে শূদ্রের ব্রহ্মবিদ্যায় অধিকার আছে। এই মত খণ্ডন করিবার জন্য দর্শনিকগণ এবং শাস্ত্রকারগণ নানা উপায় অবলম্বন করিয়াছেন। বেদান্ত দর্শনে দুইটি সূত্রে (রামানুজভাষ্যে ১।৩।৩৪, ৩৫) এ বিষয়ে আলোচনা করা হইয়াছে। দর্শনকারের মতে ‘শূদ্র’ শুচ শব্দ এবং দ্র-ধাতু হইতে নিষ্পন্ন। ভাষ্যকারগণ বলেন, জানশ্রুতি শোকে দ্রুত গমন করিয়াছিলেন, কিংবা শোকে দ্রবীভূত হইয়াছিলেন, কিংবা শোকার্ত হইয়া রৈকের নিকট দ্রুত গমন করিয়াছিলেন, কিংবা শোক তাঁহাতে দ্রুত প্রবেশ করিয়াছিল, এই জন্য জানশ্রুতিকে শূদ্র বলিয়া অভিহিত করা হইয়াছে। শঙ্করাচার্য বলেন—এখানে ‘শূদ্র শব্দের অবয়বার্থই গ্রহণ করা উচিত, রূঢ়ি অর্থ গ্রহণ করা যাইতে পারে না।