অথ হ হংসা নিশায় মতিপেতুস্তদ্ধৈবং হংসো হংসমভ্যুবাদ হো হোহয়ি ভল্লাক্ষ ভল্লাক্ষ জানশ্রুতেঃ পৌত্রায়ণস্য সমং দিবা জ্যোতিরাততং তন্মা প্রসাঙ্ক্ষীস্তত্ত্বা মা প্রধাক্ষীরিতি ॥ ২
অন্বয় : অথ হ হংসাঃ নিশায়াম্ (রাত্রিতে) অতিপেতুঃ (উড়িয়া গেল; শঙ্করের মতে ‘পতিত হইল’ অর্থাৎ জানশ্রুতির দৃষ্টিপথে পতিত হইল)। তৎ (সেই সময়ে) হ এবম্ (এই প্রকার) হংসঃ (এক হংস) হংসম্ (অপর হংসকে) অভ্যুবাদ (সম্বোধন করিয়া বলিল) হো! হো! অয়ি! (সম্বোধনসূচক অব্যয়) ভল্লাক্ষ! ভল্লাক্ষ! জানশ্রুতেঃ পৌত্রায়ণস্য (জানশ্রুতি পৌত্রায়ণের) সমম্ দিবা (দ্যুলোকের ন্যায়, আকাশের ন্যায়, বা দিবসের ন্যায়) জ্যোতিঃ আততম্ (বিস্তৃত হইয়াছে); তৎ (তাহাকে) মা (না) প্রসাঙ্ক্ষীঃ (স্পর্শ করিবে), তৎ (সেই জ্যোতি) ত্বা (তোমাকে) মা প্রধাক্ষীঃ (যেন দগ্ধ করে) ইতি (এইজন্য)।
সরলার্থ : এক রাত্রিতে একদল হাঁস উড়িয়া যাইতেছিল। একটি হাঁস অগ্রগামী আর একটি হাঁসকে বলিল— ভল্লাক্ষ, ভল্লাক্ষ, জানশ্রুতি পৌত্রায়ণের জ্যোতি আকাশ পর্যন্ত বিস্তৃত রহিয়াছে; ইহা স্পর্শ করিও না; ইহা যেন তোমাকে দগ্ধ না করে।
মন্তব্য : ‘ভল্লাক্ষ’—কেহ কেহ বলেন, ভল্লাক্ষ (ভদ্রাক্ষ) যাহাদিগের দৃষ্টি শুভ; বিদ্রূপচ্ছলেও এই শব্দ এখানে ব্যবহৃত হইতে পারে।