এষ হ বা উদক্ প্রবণো যজ্ঞো যত্রৈবংবিদ্ ব্রহ্মা ভবত্যেবংবিদং হ বা এষা ব্ৰহ্মাণমনু গাথা—যতো যত আবর্ততে তত্তদ্গচ্ছতি ॥ ৯
অন্বয় : এষঃ (এই) হ বৈ উদক্ প্রবণঃ (উত্তরদিকে নিম্ন অর্থাৎ উত্তরায়ণ পথে যাইবার উপায়) যজ্ঞঃ, যত্র এবংবিদ্ ব্রহ্মা ভবতি। এবংবিদম্ হ বৈ এষা (এই) ব্ৰহ্মাণম্ অনু (ব্রহ্মাকে লক্ষ্য করিয়া) গাথা—যতঃ যতঃ (যেখানে, যেখানে) আবর্ততে (ক্ষতযুক্ত হয়—শঙ্কর; কিংবা মন্ত্রের আবৃত্তি হয়), তৎ তৎ (সেই সেই স্থানে) গচ্ছিত গমন করে)।
সরলার্থ : এই রকম জ্ঞানসম্পন্ন ব্রহ্মা যে যজ্ঞের ঋত্বিক্ সেই যজ্ঞ উত্তরায়ণ পথে যাইবার উপায়স্বরূপ। এই প্রকার জ্ঞানসম্পন্ন ব্রহ্মার বিষয়ে এইরকম একটি গাথা আছে—’যে যে স্থানে ক্ষত হয় ব্রহ্মা সেই সেই স্থানে যান (কিংবা যেখানে যেখানে মন্ত্রের আবৃত্তি হয় সেই সেই স্থানে ব্রহ্মা যান।’
মন্তব্য : গাথা—আনন্দগিরি বলেন, গায়ত্র্যাদি ছন্দ ছাড়া অপর ছন্দে যাহা রচিত তাহাই ‘গাথা’। পিঙ্গলসূত্রেও আছে—ছন্দঃশাস্ত্রে যাহার উল্লেখ নাই, অথচ প্ৰয়োগ আছে তাহাই গাথা (৮।১)। ঐতরেয় আরণ্যকে লিখিত আছে যে, ঋঙ্ মন্ত্রাদি অপৌরুষেয় এবং গাথা মানবরচিত (৭।১৮)। যে সকল কবিতা মন্ত্র নয়, সেই সকল কবিতাকে প্রাচীনকালে গাথা বলা হইত।
‘যতঃ যতঃ আবর্ততে’—কেহ কেহ ইহার অর্থ করেন, যে স্থলে ব্রহ্মা—পুরোহিত গমন করেন, সেই স্থলে সাধারণ মানুষও গমন করে।