অথ যস্তৃতীয়মমৃতং তদাদিত্যা উপজীবন্তি বরুণেন মুখেন ন বৈ দেবা অশান্তি না পিবন্ত্যেতদেবামৃতং দৃষ্ট্বা তৃপ্যন্তি ॥ ১
অন্বয় : অথ যৎ তৃতীয়ম্ অমৃতম্ (অর্থাৎ কৃষ্ণরূপ) তৎ আদিত্যাঃ (আদিত্যগণ উপজীবন্তি বরুণের মুখেন (বরুণপ্রমুখ হইয়া)। ন বৈ দেবাঃ অশ্নন্তি. ন পিবন্তি— এতৎ এব অমৃতম্ দৃষ্ট্বা তপ্যন্তি (৩।৬।১ টীকা)।
সরলার্থ : আর সূর্যের যে তৃতীয় অমৃত অর্থাৎ কৃষ্ণবর্ণরূপ, আদিত্যগণ বরুণপ্রমুখ হইয়া তাহা উপভোগ করেন; (কিন্তু বস্তুত) দেবতারা ভোজনও করেন না পানও করেন না, তাঁহারা এই অমৃত দেখিয়াই তৃপ্ত হন।
মন্তব্য : আদিত্যগণও এক শ্রেণীর গণদেবতা। আদিত্যগণ অদিতির পুত্র। ঋগ্বেদের এক জায়গায় (২।২৭।১) মিত্র, অর্যমা, ভগ, বরুণ, দক্ষ এবং অংশ—এই ছয়জনকে অদিতির পুত্র বলা হইয়াছে। অন্য জায়গায় সপ্ত আদিত্যের কথা বলা হইয়াছে। (৯।১১৪।৩)। দশম মণ্ডলে এক জায়গায় (৭২।৮,৯) আছে যে অদিতির দেহ হইতে আট পুত্র উৎপন্ন হইয়াছিল; অষ্টম পুত্রের নাম মার্তণ্ড। অথর্ববেদের মতে অদিতির আট পুত্র (৮।৯।২১)। তৈত্তিরীয় ব্রাহ্মণেও (১।১।৯।১) অদিতির আট পুত্রের কথা আছে; তাহাদের নাম—মিত্র, বরুণ, ধাতা, অর্যমা, অংশ, ভগ, ইন্দ্র এবং বিবস্বান্। সায়ণ ঋভাষ্যে এই ছয়জনের নামই উদ্ধৃত করিয়াছেন। শতপথ ব্ৰাহ্মণে দুই জায়গায় (৬।১।২।৮, ১১।৬।৩।৮) বলা হইয়াছে যে, আদিত্যের সংখ্যা বার। ঐতরেয় ব্রাহ্মণের মতেও (১।২।৪) দ্বাদশ আদিত্য। সংহিতা যুগের পরে দ্বাদশ আদিত্যকে দ্বাদশ মাসের অধিপতিরূপে গ্রহণ করা হইয়াছে।