তদ্ যৎ প্রথমমমৃতং তদ্বসব উপজীবন্ত্যগ্নিনা মুখেন না বৈ দেবা অশন্তি ন পিবন্ত্যেতদেবামৃতং দৃষ্ট্বা তৃপ্যন্তি ॥ ১
অন্বয় : তৎ (সেই) যৎ যে প্রথমম্ অমৃতম্ (প্রথম অমৃত অর্থাৎ আদিত্যের লোহিতরূপ) তৎ (তাহাকে) বসবঃ (বসুগণ) উপজীবন্তি (উপভোগ করেন) অগ্নিনা মুখেন (অগ্নি প্রমুখ হইয়া); ন (না) বৈ দেবাঃ (দেবগণ) অশন্ত (ভোজন করেন), না পিবন্তি (পান করেন); এতৎ এব অমৃতম্ (এই অমৃতকে) দৃষ্ট্বা (দেখিয়া) তৃপ্যন্তি (তৃপ্তি লাভ করেন)।
সরলার্থ : সেই যে প্রথম অমৃত অর্থাৎ সূর্যের লোহিত রূপ বসুগণ অগ্নির মুখ দিয়া তাহা উপভোগ করেন। কিন্তু বস্তুত দেবগণ ভোজনও করেন না, পানও করেন না; এই অমৃত দেখিয়াই তাঁহারা তৃপ্ত হন।
মন্তব্য : ‘বসবঃ’ ইত্যাদি— অনেক দেবতা আছেন যাঁহারা পৃথক পৃথক্ ভাবে উক্ত হন না; ইঁহারা সমষ্টিভাবে পরিচিত। এই শ্রেণীর দেবতার নাম ‘গণদেবতা’। বসু, রুদ্র, আদিত্য ইত্যাদিরা এই শ্রেণীর অন্তর্গত। ‘বসু’র অনেক অর্থ হইতে পারে, যেমন— যিনি উজ্জ্বল, যিনি ধনদান করেন, যিনি আচ্ছাদন বা আশ্রয় প্রদান করেন ইত্যাদি। ঋগ্বেদে আদিত্য, মরুৎ, অশ্বিদ্বয়, ইন্দ্র, ঊষা, রুদ্র, বায়ু, বিষ্ণু প্রভৃতি দেবতাদিগকে বসু বলা হইয়াছে। মহাভারতাদি গ্রন্থে শিব ও কুবেরও বসু নামে খ্যাত। ঐতরেয় ব্রাহ্মণ, শতপথ ব্রাহ্মণ, বৃহদারণ্যক উপনিষৎ প্রভৃতি গ্রন্থের মতে বসুগণের সংখ্যা আট। বিষ্ণুপুরাণে অষ্টবসুর নাম এই—আপ, ধ্রুব, সোম, ধব বা ধর, অনিল, অনল বা পাবক, প্রত্যুষ এবং প্রভাস। ব্রাহ্মণাদি গ্রন্থের মতে বসুগণ পৃথিবীর অধিষ্ঠাত্রী দেবতা। ঋগ্বেদের মতে ইন্দ্র বসুগণের নেতা (৭।৩৫।৬; ৭।১০।৪)। কিন্তু পরবর্তী কালে অগ্নিকেই ইঁহাদিগের নেতা বলা হইয়াছে : ‘অগ্নিনা এব মুখেন’ ইত্যাদি। অগ্নি বসুগণের নেতা, সেইজন্য বলা হইয়াছে ‘অগ্নিনা এক মুখেন’।